
একদিকে কোনও প্ররোচনায় পা না দেওয়ার অনুরোধ, অন্যদিকে রাজনীতি দূরে ঠেলে বিপর্যস্তদের পাশে থাকার আহ্বান। মুখ্যসচিবকে সঙ্গে নিয়ে উত্তরবঙ্গ সফরের প্রথম দিনেই দুই ভূমিকাতেই উজ্জ্বল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথম দিনের পর্যবেক্ষণ শেষে সোশাল মিডিয়ায় দীর্ঘ পোস্ট করেছেন মমতা। সেখানে লিখেছেন, ‘‘এখন আমাদের সকলকে, সকলের পাশে থাকতে হবে। মানুষের কথা শুনতে হবে। তাঁদের অভিযোগ-অনুযোগকে গুরুত্ব দিয়ে অনুধাবন করতে হবে। আমি সকলকে বলব, প্ররোচনায় পা দেবেন না।’
মমতা আরও লিখেছেন, ‘‘মানুষের পাশে থাকতে যা যা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার তা মা-মাটি-মানুষের সরকার ইতিমধ্যেই করেছে। আপনারাও যথাসাধ্য চেষ্টা করুন। রাজনীতি নয়, মানবতাকে পাথেয় করে এই বিপর্যয়ের দিনে মানুষের পাশে থাকুন। আমি এবং মা-মাটি-মানুষের সরকার সর্বদা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে আছি।’
সোমবার দুপুরে উত্তরবঙ্গ পৌঁছেই প্রথমে হাসিমারায় যান মুখ্যমন্ত্রী। তার পর সেখান থেকে যান নাগরাকাটায়। মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রীর যাওয়ার কথা ধস বিধ্বস্ত মিরিকের পরিস্থিতি পরিদর্শনে। প্রথম দিনে বিপর্যস্ত এলাকা পরিদর্শন করে তিনি লিখেছেন, ”হাসিমারা এবং নাগরাকাটা পরিদর্শন করেছি, পরিবার এবং স্থানীয়দের সঙ্গে দেখা করে কথা বলেছি, তাঁদের চাহিদা মূল্যায়ন করেছি এবং রাজ্য সরকারের পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছি।”
হাসিমারা এবং নাগরাকাটায় পর্যালোচনা সফরে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ এবং ডিজি রাজীব কুমার। বিপর্যস্ত এলাকায় ত্রাণ এবং উদ্ধারকাজে তদারকি করছেন রাজনৈতিক দলের নেতাদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকরা এবং রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বাহিনী। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে উদ্ধার ও ত্রাণ বিলির কাজ।
এক্স হ্যান্ডেল মমতা লিখেছেন, ”আমরা আটকে পড়া পর্যটকদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য বাসের ব্যবস্থা করেছি, খাবার ও আশ্রয় দেওয়ার জন্য কমিউনিটি রান্নাঘর এবং ত্রাণ শিবির খুলেছি।” উত্তরবঙ্গ সফরে যাওয়ার আগেই দুর্যোগে মৃতদের পরিবারপিছু ৫ লক্ষ করে টাকা এবং একজনকে হোমগার্ডে চাকরি দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, সোমবার রাত পর্যন্ত ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে উত্তরবঙ্গের এই ভারী বৃষ্টির দরুণ ভূমিধস ও প্লাবনের জেরে।

সোশাল মিডিয়ায় রাতের পোস্টে ফের ইন্দো-ভুটান নদী কমিশন গঠনের প্রসঙ্গও টেনেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। লিখেছেন, ”বারবার কেন্দ্রকে কমিশন (ইন্দো-ভুটান নদী) গঠনের জন্য অনুরোধ করেছি, কিন্তু কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি। এছাড়াও, সঠিক খনন এবং জলাবদ্ধতা দূরীকরণের অভাব এবং ডিভিসি-নিয়ন্ত্রিত বাঁধ থেকে একতরফা জল ছাড়ার জেরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। ফলে জীবনহানির পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতিও এড়ানো সম্ভব হয়নি।”
সোশাল মিডিয়ায় কেন্দ্রকে তোপ দেগেও সংকটের সময় রাজনীতি না করার কথা উল্লেখ করেছেন মমতা। লিখেছেন, ”সংকটের সময়ে, রাজনীতি কখনই মানুষের জীবনের চেয়ে বড় নয়। রাজ্য সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়াতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমি সকলকে বিশ্বাস বজায় রাখার, শান্ত থাকার এবং উস্কানির শিকার না হওয়ার আহ্বান জানাই। সমবেদনা, সহানুভূতি এবং মানবতা আমাদের সকলকে পথ দেখাবে।”
