
দিল্লি-এনসিআরে দীপাবলির সময় আতশবাজির নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে পাঁচ দিনের জন্য তোলা হতে পারে বলে শুক্রবার জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি বি.আর.গভাই ও বিচারপতি কে. বিনোদ চন্দ্রনের বেঞ্চ এই নির্দেশ দেন।
বেঞ্চ জানায়, “এই মুহূর্তে আমরা দীপাবলির সময়কালের জন্য নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের অনুমতি দিচ্ছি।”
অনেকের মতে বিষয়টি এমন সময়ে এল, যখন প্রতিবেশী রাজ্যগুলিতে কৃষিজমিতে আগাছা পোড়ানোর কারণে বায়ুদূষণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শুনানির সময় কেন্দ্রের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতের কাছে অনুরোধ জানান, দীপাবলিতে শিশুদের আনন্দ সীমিত না করতে সময়সীমা কিছুটা শিথিল করা হোক।
তিনি বলেন, “এটি কয়েক দিনের ব্যাপার মাত্র। শিশুদের উৎসাহের সঙ্গে দীপাবলি উদযাপন করতে দিন।”
সুপ্রিম কোর্ট জানায়, দীপাবলির পাঁচ দিনের সময়সীমায় পরীক্ষামূলকভাবে নিষেধাজ্ঞা তোলা যেতে পারে, তবে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হবে।
সরকার প্রস্তাব দিয়েছে :
•দীপাবলি ও বড় উৎসবে রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত,
•নববর্ষের আগের রাতে রাত ১১টা ৫৫ থেকে ১২টা ৩০ পর্যন্ত,
•গুরুপরবে সকালে ও বিকেলে এক ঘণ্টা করে,
•বিবাহ বা ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে সীমিত সময়ের জন্য আতশবাজি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হোক।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এর আগে ২০১৮-২০ সময়কালে ‘গ্রিন ক্র্যাকার্স’ নীতি চালু হলেও বাতাসের গুণমানে কোনও প্রকৃত উন্নতি হয়নি। বাস্তবে এই ক্র্যাকার ও সাধারণ আতশবাজির মধ্যে পার্থক্য বোঝা প্রায় অসম্ভব ছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীপাবলির সময় আবহাওয়ার পরিবর্তন, হাওয়ার গতি এবং পাঞ্জাব-হরিয়ানায় আগাছা পোড়ানোই দূষণ বাড়ার মূল কারণ। এর সঙ্গে আতশবাজি যোগ হলে বায়ুমানের সাময়িক কিন্তু তীব্র অবনতি ঘটে।
এনভাইরোক্যাটালিস্টস থিংক-ট্যাঙ্কের প্রতিষ্ঠাতা সুনীল দাহিয়া বলেন, “গ্রিন ক্র্যাকার্স ফাটানোও দিল্লির বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণের লড়াইকে অন্তত দশ বছর পিছিয়ে দিতে পারে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আমাদের উৎসস্থলেই দূষণের সব উৎস নিয়ন্ত্রণ করতে হবে— আতশবাজি, আগাছা পোড়ানো, যানবাহনের ধোঁয়া, বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প, বর্জ্য ও নির্মাণ — সবক্ষেত্রেই সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।”

