
ভারতের সীমান্তের কাছে লাদাখে চিনা সেনা দ্রুতগতিতে একটি নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি তৈরি করছে। স্যাটেলাইট চিত্র অনুযায়ী, প্যাংগং হ্রদের পূর্ব তীরে ভারতের সীমান্ত থেকে মাত্র ১১০ কিলোমিটার দূরে এই ঘাঁটি গড়ে উঠছে। এটি শুধুমাত্র একটি সাধারণ সামরিক ঘাঁটি নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ এয়ার ডিফেন্স কমপ্লেক্স। এখানে রয়েছে কমান্ড সেন্টার, সেনা ব্যারাক, অস্ত্রাগার, রাডার স্থাপনা এবং যানবাহন রাখার জন্য বিশাল হ্যাঙ্গার। বিশেষভাবে তৈরি করা ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ক্ষেত্রের ছাদ খুলে ট্রান্সপোর্টার ইরেক্টর লঞ্চার ব্যবহার করে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা সম্ভব।
গবেষকরা জানাচ্ছেন, এই ঘাঁটিতে দীর্ঘপাল্লার HQ-9 সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল স্থাপন করা হচ্ছে। HQ-9 মিসাইলের কার্যক্ষমতা ২০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম, যা লাদাখ অঞ্চলের ভারতীয় বিমানঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে নিতে পারে। তিব্বতের গার কাউন্টিতেও একই ধরনের আরেকটি ঘাঁটি তৈরি হচ্ছে, যা ভারতের আধুনিকীকৃত নিয়োমা বিমানঘাঁটির মুখোমুখি। ২৯ সেপ্টেম্বরের স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, কিছু উৎক্ষেপণ শেডের ছাদ আংশিক খোলা আছে, যা ইঙ্গিত দেয় ঘাঁটিটি শিগগিরই সম্পূর্ণ কার্যকর হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, চিনের এই পদক্ষেপ শুধুমাত্র সামরিক প্রস্তুতির অংশ নয়, এটি এক ধরনের কৌশলগত বার্তাও। যেখানে বাণিজ্যিকভাবে ভারত-চিন সম্পর্ক কিছুটা ঘনিষ্ঠ হচ্ছে, সেখানে সীমান্তে এই ধরনের সামরিক উপস্থিতি দুই দেশের মধ্যকার আস্থা নড়বড়ে করে দিতে পারে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘাঁটির কার্যক্রম সীমান্ত পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ করতে পারে।
এই নতুন ঘাঁটি ভারতের নিরাপত্তা এবং কৌশলগত অবস্থানের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে গড়ে ওঠা এই স্থাপনাগুলো ভারতের প্রতিরক্ষা নীতিতে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
