
মহারাষ্ট্রে এক তরুণী চিকিৎসকের মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সাতারা জেলার ফলটন সাব-ডিভিশন হাসপাতালে কর্মরত ২৬ বছরের ওই চিকিৎসককে বৃহস্পতিবার নিজের ঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। মৃত্যুর আগে বাঁ হাতের তালুতে অভিযুক্তের নাম লিখে গিয়েছিলেন তিনি। এছাড়াও চার পাতার একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে, যেখানে উঠে এসেছে ধর্ষণ, মানসিক নির্যাতন এবং রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ।
সূত্রের খবর, ওই চিকিৎসক দীর্ঘদিন ধরে সহকর্মী এক সাব-ইনস্পেক্টর গোপাল বাদনের দ্বারা যৌন ও মানসিক নির্যাতনের শিকার ছিলেন। অভিযোগ, পাঁচ মাস ধরে বারবার তাঁকে ধর্ষণ করা হয়েছে এবং ভয় দেখিয়ে নীরব থাকতে বাধ্য করা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, বাড়িওয়ালা প্রশান্ত ব্যাংকরের বিরুদ্ধেও হেনস্থার অভিযোগ উঠে এসেছে ওই নোটে।
চাঞ্চল্য আরও বাড়িয়েছে সুইসাইড নোটের আরও এক বিস্ফোরক দাবি। তাতে উল্লেখ রয়েছে, পুলিশি চাপে তাঁকে একাধিকবার ভুয়ো মেডিক্যাল রিপোর্ট তৈরি করতে বাধ্য করা হত। একবার নির্দেশ অমান্য করায় এক সাংসদের সহযোগীরা হাসপাতালে গিয়ে তাঁর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং তাঁকে হুমকি দেন বলেও নোটে লেখা রয়েছে।
চিকিৎসকের পরিবার জানিয়েছে, তিনি একাধিকবার উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকদের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন, কিন্তু কোনও পদক্ষেপ হয়নি। মৃত্যুর পর অভিযুক্ত সাব-ইনস্পেক্টর ও বাড়িওয়ালার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযুক্ত পুলিশকর্মীকে ইতিমধ্যেই বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তদন্তের দায়িত্ব নেওয়া হয়েছে কল্যাণ রেঞ্জের আইজি সুনীল ফুলারীর নেতৃত্বে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই মহারাষ্ট্রে রাজনৈতিক তরঙ্গ শুরু হয়েছে। বিরোধীরা অভিযোগ তুলেছে, আইনরক্ষকই যখন অপরাধী হয়, তখন সাধারণ নাগরিকের নিরাপত্তা কোথায়। রাজ্য সরকার আশ্বাস দিয়েছে, কঠোর তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের কোনও রেহাই দেওয়া হবে না। এই মর্মান্তিক ঘটনা আবারও তুলে ধরেছে মহিলাদের নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা নিয়ে গভীর প্রশ্ন।
