
বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেটে তীব্র ঝড় তুলেছেন জাতীয় দলের পেসার জাহানারা আলম। দীর্ঘদিনের নীরবতা ভেঙে তিনি প্রকাশ্যে এনেছেন যৌন হেনস্তার ভয়াবহ অভিজ্ঞতা। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন জাতীয় দলের প্রাক্তন নির্বাচক মঞ্জুরুল ইসলাম। জাহানারার দাবি, ২০২১ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে বারবার অশালীন আচরণ ও প্রস্তাবের শিকার হয়েছেন তিনি। এমনকি ২০২২ সালের মহিলা ওয়ানডে বিশ্বকাপ চলাকালীনও পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নেয়।
তিনি জানিয়েছেন, মঞ্জুরুলের আচরণ ক্রমশ সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছিল। টিম ম্যানেজমেন্টের কয়েকজনের কাছ থেকেও অশালীন মন্তব্য ও প্রস্তাব এসেছে বলে তাঁর অভিযোগ। এই সমস্ত বিষয় তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের একাধিক কর্তাকে জানিয়েও কোনও সুরাহা পাননি। বরং, প্রতিবাদ করার পর তাঁকে বিভিন্নভাবে অপমান করা হয় এবং দলে উপেক্ষিত হতে হয়।
জাহানারার অভিযোগ, দলের প্রাক্তন নির্বাচক প্রায়ই খেলোয়াড়দের সঙ্গে অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করতেন। এমনকি তাঁদের ব্যক্তিগত শারীরিক বিষয়ে অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করতেন। এসব ঘটনায় বিরক্ত হয়ে তিনি অবশেষে মুখ খোলার সিদ্ধান্ত নেন।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত মঞ্জুরুল ইসলাম এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড জানিয়েছে, অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর এবং এ বিষয়ে দ্রুত বৈঠক ডাকা হবে। প্রয়োজনে স্বাধীন তদন্তের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেটে এই অভিযোগকে অনেকেই সবচেয়ে বড় যৌন হেনস্তা সংক্রান্ত ঘটনা বলে মনে করছেন। ক্রিকেট মহলে এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অনেকের মতে, জাহানারার এই সাহসী পদক্ষেপ ভবিষ্যতে অন্য ক্রিকেটারদেরও মুখ খুলতে উৎসাহিত করবে এবং মহিলা খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বোর্ডকে আরও কড়া পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করবে।
