
সিরিয়ার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান আহমেদ আল-শারার উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিল রাষ্ট্রপুঞ্জ নিরাপত্তা পরিষদ। বৃহস্পতিবার ১৫ সদস্যের পরিষদের মধ্যে ১৪টি দেশ এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়, একমাত্র চিন ভোটদানে বিরত থাকে। প্রাক্তন আল-কায়েদা নেতা আল-শারা দীর্ঘ এক দশক ধরে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ছিলেন।
রাষ্ট্রপুঞ্জের এই সিদ্ধান্তকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে, কারণ এর ফলে সিরিয়ায় সুন্নি জঙ্গিদের প্রভাব আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। গত বছর দামাস্কাস দখল করে ফেলেছিল সুন্নি জঙ্গিগোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস) এবং জইশ আল-ইজ্জা। এর পরই বাশার আল-আসাদ সরকারের পতন ঘটে এবং তিনি আশ্রয় নেন রাশিয়ায়।
এইচটিএস গোষ্ঠীর পেছনে ছিল তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এর্ডোগানের সরকারের সমর্থন, যা মার্কিন নেতৃত্বাধীন নেটো জোটের সঙ্গেই যুক্ত। চলতি বছরের মে মাসে সৌদি আরবের রিয়াধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন আল-শারা। সেই বৈঠকের পরই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
জুলাই মাসে মার্কিন অর্থ দফতর জানায়, সিরিয়ার পুনর্গঠন এবং প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে জড়িত গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাগুলির উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে। এবার রাষ্ট্রপুঞ্জও সেই পথেই হাঁটল। উল্লেখযোগ্যভাবে, আল-শারা ও তাঁর সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আনাস খত্তারের উপর থেকে ইতিমধ্যেই নিষেধাজ্ঞা উঠেছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, আল-শারার আমেরিকা সফরের আগেই এই পদক্ষেপের অর্থ অনেক গভীর। তুরস্ক, আমেরিকা ও সৌদি আরবের সঙ্গে নতুন কূটনৈতিক সমীকরণে সিরিয়ার ভবিষ্যৎ প্রশাসনের রূপরেখা নির্ধারিত হতে পারে। তবে অনেকের আশঙ্কা, এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশে সংখ্যালঘু শিয়া ও দ্রুজ সম্প্রদায়ের উপর নিপীড়ন আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
