
বিশ্বজুড়ে সংবাদ জগতে তুমুল আলোড়ন ফেলেছে বিবিসির দুই শীর্ষ কর্তার পদত্যাগ। প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক টিম ডেভি এবং নিউজ বিভাগের প্রধান ডেবোরাহ টারনেস নৈতিক দায় স্বীকার করে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তাঁদের এই পদত্যাগের কারণ হিসেবে উঠে এসেছে সম্পাদকীয় নীতি ভঙ্গ এবং পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ।
ঘটনার সূত্রপাত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে তৈরি এক তথ্যচিত্র থেকে। সেখানে ট্রাম্পের বক্তব্য এমনভাবে সম্পাদনা করা হয়েছিল, যাতে মনে হয়েছে তিনি ২০২১ সালের ক্যাপিটাল হিলের ঘটনায় উসকানি দিয়েছিলেন। এই অভিযোগ সামনে আসতেই ট্রাম্প প্রশাসন বিবিসিকে ‘অপপ্রচার যন্ত্র’ বলে তীব্র সমালোচনা করে। একই সঙ্গে ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য টেলিগ্রাফও দাবি করে, বিবিসি ট্রাম্পের দুটি ভিন্ন সময়ের বক্তব্য জুড়ে বিকৃত বার্তা ছড়িয়েছে।
যদিও বিবিসির পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি, প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে দীর্ঘদিন ধরেই পক্ষপাতমূলক সংবাদ পরিবেশনের অভিযোগ উঠছিল। গাজা সংঘাত, ট্রান্সজেন্ডার ইস্যু থেকে শুরু করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিষয়ে রিপোর্টিংয়ের মান নিয়ে কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছিল।
এর আগে ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানও বিবিসির প্রতিবেদনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। বিশেষ করে গুজরাত দাঙ্গা নিয়ে তথ্যচিত্র প্রকাশের পর ভারতের সঙ্গে বিবিসির সম্পর্ক তিক্ত হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প বিতর্ক কেবল একক ঘটনা নয়, বরং বিশ্বজুড়ে সংবাদমাধ্যমের নৈতিকতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিবিসির মতো ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক সাংবাদিকতার মানদণ্ডে বড় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
