
কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের (KIFF) সমাপনীতে বাংলা চলচ্চিত্রের প্রথিতযশা নির্মাতা গৌতম ঘোষকে জীবনকৃতি সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে। পাঁচ দশকের সৃজনশীলতার পরিপূর্ণতায় এই পুরস্কার তাঁর দীর্ঘ সময়ের পরিশ্রম, শিল্পের প্রতি নিবেদন এবং সিনেমা জগতের অবদানকে স্বীকৃতি দিল।
সমাপ্তি অনুষ্ঠানে ঘোষকের অবাক হওয়া মুখ এবং গভীর আবেগের মুহূর্ত দর্শকদের হৃদয়ে দাগ কেটেছে। পুরস্কারটি তিনি উৎসর্গ করেছেন প্রয়াত স্ত্রী নীলাঞ্জনা ঘোষকে, যার সমর্থন এবং সহচরিতা তাঁর এই দীর্ঘ যাত্রাকে সম্ভব করেছে। চলচ্চিত্র উৎসবের মঞ্চে উপস্থিত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হাতে পুরস্কার তুলে দেন, যা অনুষ্ঠানের উচ্ছ্বাসকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
গৌতম ঘোষ শুধু একজন পরিচালক নন; তিনি চিত্রনাট্যকার, চিত্রগ্রাহক ও সঙ্গীতকার হিসেবেও বাংলা সিনেমার প্রতিটি অংশে নিজের ছাপ রেখেছেন। তাঁর সিনেমাগুলো যেমন নদীর স্রোতের মতো মৃদু, তেমনি সমাজের প্রশ্নগুলো তুলে ধরা তীক্ষ্ণ। ‘দেখা’, ‘অন্তর্জলী যাত্রা’, ‘পদ্মা নদীর মাঝি’, ‘আবার অরণ্যে’, ‘মনন’, ‘পদাতিক’ প্রতিটি চলচ্চিত্রে তাঁর কাব্যিক দৃশ্যন এবং গল্প বলার অনন্য ক্ষমতা ফুটে উঠেছে।
বিশ্বমঞ্চে বাংলা সিনেমার উপস্থিতি এবং স্বীকৃতির পেছনে তাঁর অবদান অপরিসীম। কান, ভেনিস, টোকিও এবং বার্লিনসহ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে তাঁর কাজের প্রতিফলন বাংলার চলচ্চিত্রকে গৌরব জুগিয়েছে। KIFF-এর এই বছর নির্বাচিত ছবিগুলোর মান ও ভাবনা তাঁর সূক্ষ্ম দৃষ্টির ফল।
৩১তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের সমাপ্তি অনুষ্ঠানে গৌতম ঘোষের সম্মাননা শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং বাংলা চলচ্চিত্রের দীর্ঘমেয়াদী শিল্পকীর্তির এক স্মারক। দর্শকরা উৎসবের প্রতিটি মুহূর্তে শিল্প, আবেগ ও শ্রদ্ধার এক অনন্য মিলন অনুভব করেছেন।
