
বাংলাদেশের বাজারে ক্রমবর্ধমান চালের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে অন্তর্বর্তী সরকার নতুন করে আমদানির পথে এগোতেই সক্রিয় হয়ে উঠেছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ঘরোয়া বাজার থেকে এক লক্ষ টন লম্বা দানার সাদা চাল কেনার জন্য দরপত্র আহ্বান করেছে, যা মূলত বাংলাদেশে রফতানির উদ্দেশ্যে সংগ্রহ করা হবে বলে জানা যাচ্ছে। ঢাকার সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের পর পাকিস্তানের এই বৃহৎ সরবরাহ উদ্যোগকে দুই দেশের ব্যবসায়িক সমীকরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় বলে মনে করা হচ্ছে।
গত কিছু মাস ধরে বাংলাদেশের খাদ্য পরিকল্পনা এবং পরিধারণ কমিটির পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে, মোটা, মাঝারি এবং সরু তিন ধরনের চালের দামই বেড়েছে। মোটা দানার দাম পঞ্চাশের ঘর ছাড়িয়ে গিয়েছে, মাঝারি দানার দাম ষাটের উপরে এবং সরু চাল সত্তরের ঘর পেরিয়ে আরও উঁচুতে উঠেছে। ট্রেডিং কর্পোরেশন অফ বাংলাদেশ-এর সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, বাজারে প্রকৃত দাম এই সংখ্যার থেকেও বেশি, ফলে সাধারণ মানুষের খাদ্যব্যয় দ্রুত বাড়ছে।
হাসিনা জমানায় পাকিস্তানের সঙ্গে সরাসরি বাণিজ্য প্রায় বন্ধ থাকলেও সেই পরিস্থিতি বদলেছে এ বছর ফেব্রুয়ারি থেকে। দু’দেশের বাণিজ্যিক রুট পুনরায় চালু হওয়ার পর বাংলাদেশ ইতিমধ্যে কয়েক দফায় পাকিস্তান থেকে পঞ্চাশ হাজার টন চাল আমদানি করেছে। কিন্তু বাজারে দামের লাগাম ধরতে এখন প্রয়োজন আরও বড় আমদানি, আর সেই চাহিদাকেই সামনে রেখে এবার দ্বিগুণ পরিমাণ চাল পাঠাতে প্রস্তুত হচ্ছে শাহবাজ শরিফের সরকার।
পাকিস্তানের আহ্বান করা নতুন দরপত্র অনুযায়ী, সংগ্রহ করা চাল প্যাকেটজাত করে করাচি বন্দর থেকে জাহাজে তুলেই বাংলাদেশে রওনা দেওয়া হবে। আগামী শুক্রবার পর্যন্ত দরপত্র জমা নেওয়া হবে। বাংলাদেশের বাজারে স্থিতি ফেরাতে চালের দ্রুত আমদানি এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন খাদ্য বিশেষজ্ঞরা। দুই দেশের বাণিজ্যিক ঘনিষ্ঠতা বাড়ার পাশাপাশি এই সিদ্ধান্ত দক্ষিণ এশিয়ার খাদ্যবাজারের ভবিষ্যতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
