
বৃহস্পতিবার কলকাতা পৌরনিগমের মাসিক অধিবেশনে উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হয়, যখন বিজেপি কাউন্সিলর সজল ঘোষ ও মেয়র ফিরহাদ হাকিম বিতণ্ডায় জড়ান। বিষয়টি শুরু হয় মেয়রের বক্তব্য থেকে, যেখানে তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামে বিজেপির অবদানকে নিশানা করেছিলেন। এসময় সজল ঘোষ মেয়রের উপর কাটমানির মন্তব্য তুলে ধরে পাল্টা আক্রমণ করেন।
বিতর্ক তুঙ্গে ওঠে ‘মিনি পাকিস্তান’ ইস্যুতে। সজল জানান, মেয়র পূর্বে একটি পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকারে কলকাতাকে ‘মিনি পাকিস্তান’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। বিষয়টি নিয়ে তিনি পুনরায় মেয়রকে প্রশ্ন করেন, যা সজল ও ফিরহাদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। মেয়র প্রতিক্রিয়ায় জানান, “যদি আমি সত্যিই মিনি পাকিস্তান বলেছি, প্রমাণ দেখালে ইস্তফা দেব।” দুই পক্ষের উত্তেজনা পৌরনিগমের অধিবেশনে ছড়িয়ে পড়ে, এমনকি হাতাহাতির ধমক অনুভূত হয়। তৃণমূলের কাউন্সিলররা মেয়রকে শান্ত করতে এগিয়ে আসেন।
পৌরনিগমে বিজেপির তিনজন কাউন্সিলর রয়েছেন, যার মধ্যে এদিন দুইজন উপস্থিত ছিলেন। তৃণমূলের শতাধিক কাউন্সিলর সভায় উপস্থিত ছিলেন। পরে সজল বলেন, মেয়র বিহারের হিজাব ইস্যু নিয়ে কথা বলছিলেন, যা তারা নিন্দা করছেন, কিন্তু তা নিয়ে পৌরনিগমে কেন উল্লেখ করা হলো, সেই প্রশ্ন তিনি তুলেছেন।
ঘটনাটির মাধ্যমে কলকাতা পৌরনিগমে রাজনৈতিক উত্তেজনার ছাপ স্পষ্ট দেখা যায়। দুই নেতা পাল্টা-পাল্টি অভিযোগ করেন এবং একে অপরের বক্তব্যকে বিতর্কিত হিসেবে আখ্যায়িত করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে তৃণমূলের অন্যান্য কাউন্সিলরদের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হয়।
এই ঘটনার পরও শহরের প্রশাসনিক কার্যক্রম চলতে থাকে, তবে পৌরনিগমে রাজনৈতিক মতবিরোধের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ভোট ও রাজনীতির প্রেক্ষাপটে এ ধরনের বিতর্ক নতুন নয়, তবে ‘মিনি পাকিস্তান’ ইস্যু নিয়ে সরাসরি দুই নেতার মধ্যে উত্তেজনা প্রকাশ পাওয়ায় তা বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে।
