
ইরানে টানা ১৩ দিন ধরে চলা বিক্ষোভ আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদ থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন সরাসরি সরকার পতনের দাবিতে পরিণত হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে, দেশজুড়ে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার বিক্ষোভ ১৩তম দিনে প্রবেশ করে। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে ক্ষমতায় থাকা বর্তমান শাসনের বিরুদ্ধে জনতার ক্ষোভ এখন বিস্ফোরক আকার ধারণ করেছে। রাজধানী তেহরান-সহ একাধিক বড় শহরে বিক্ষোভকারীদের রাস্তায় নামতে দেখা গেছে। ইন্টারনেট অবরোধ সত্ত্বেও আন্দোলনের ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে।
নেটব্লকস জানায়, ইরানে ইন্টারনেট সংযোগ স্বাভাবিকের মাত্র ১ শতাংশে নেমে এসেছে। তাদের মতে, এই ডিজিটাল ব্ল্যাকআউট নাগরিকদের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করছে এবং সহিংসতার খবর আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী শিরিন এবাদি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ রেখে ব্যাপক দমন অভিযান চালানো হতে পারে। তাঁর দাবি, তেহরানের একাধিক হাসপাতালে গুলিবিদ্ধ শত শত আহতকে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে নির্বাসিত ক্রাউন প্রিন্স রেজা পাহলভি ইরানিদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে সরকারকে ‘চূড়ান্ত আঘাত’ করার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখার কথা জানিয়ে সতর্ক করেছেন, বিক্ষোভকারীদের হত্যা হলে আমেরিকা হস্তক্ষেপ করতে পারে।
সরকারি পাল্টা বয়ানে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, বিদেশি মদতপুষ্ট দাঙ্গা দমনে নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান চালাচ্ছে। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল জানায়, সশস্ত্র সহিংসতার সঙ্গে যুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারের কঠোর অবস্থান ও আন্তর্জাতিক চাপের জেরে পশ্চিম এশিয়ায় ফের উত্তেজনা বাড়ছে।
