
ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম সফল অলরাউন্ডার যুবরাজ সিং ফের আলোচনায়। সম্প্রতি টেনিস তারকা সানিয়া মির্জার ইউটিউব টক শো ‘সার্ভিং ইট আপ উইথ সানিয়া’-তে নিজের কেরিয়ারের এক বিতর্কিত অধ্যায় নিয়ে মুখ খুলেছেন তিনি। যুবরাজের দাবি, এক তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে এমন একটি গল্প ছড়ানো হয়েছিল, যা তাঁর সম্মান ও মানসিক শান্তিকে গভীরভাবে আঘাত করেছিল।
যুবরাজ জানান, একসময় তাঁর নতুন এক এজেন্টের সঙ্গে কাজ শুরু করেছিলেন। সৌজন্যবশত আলিঙ্গনের একটি মুহূর্তকে ঘিরে সংবাদমাধ্যমে রটানো হয়, ম্যাচ চলাকালীন তিনি নাকি এক মেয়ের সঙ্গে দেখা করেছেন। এই খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং তা নেতিবাচকভাবে উপস্থাপিত হয়। যুবরাজের কথায়, “সংবাদমাধ্যমে ইতিবাচক খবরের তুলনায় নেতিবাচক খবরই বেশি গুরুত্ব পায়। বিতর্ক না থাকলে নাকি মানুষ পড়ে না, এই মানসিকতা খুব কষ্ট দেয়।”
২০০৭ সালের টি-২০ বিশ্বকাপ ও ২০১১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ, দুই ঐতিহাসিক সাফল্যের নায়ক হয়েও, এই ধরনের খবর তাঁকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে। যুবরাজ স্বীকার করেন, ধীরে ধীরে তিনি ক্রিকেট উপভোগ করা বন্ধ করে দেন। মাঠে নামার আনন্দ কমে যায়, তার সঙ্গে যোগ হয় অবহেলার অনুভূতি। “আমি মনে করছিলাম, আমাকে সম্মান দেওয়া হচ্ছে না। যখন আর সম্মান বা আনন্দ পাচ্ছি না, তখন খেলে যাওয়ার মানে কী?” বলেছেন তিনি।
এই মানসিক চাপই শেষ পর্যন্ত অবসরের সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা নেয় বলে জানান যুবরাজ। দীর্ঘ ১৭ বছর ভারতীয় দলের হয়ে খেলে তিনি অনেক অর্জন করেছেন, কিন্তু বিতর্ক ও নেতিবাচক প্রচারের ভার তাঁকে শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত করে দেয়। যুবরাজের এই স্বীকারোক্তি ফের একবার প্রশ্ন তুলল, তারকাদের ব্যক্তিগত মুহূর্ত কতটা দায়িত্বশীলভাবে তুলে ধরা উচিত সংবাদমাধ্যমের?
