
তেহরানে ধোঁয়া, ওয়াশিংটনে কঠোর বার্তা। ইরানের ইসলামিক রিভলিউশনারি গার্ড কর্পস বা Islamic Revolutionary Guard Corps–এর সদর দফতর ভয়াবহ মার্কিন হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে বলে দাবি করেছে আমেরিকা। রবিবার গভীর রাতে শুরু হওয়া এই অভিযানের দায় স্বীকার করে US Central Command জানায়, “৪৭ বছর ধরে অসংখ্য মার্কিন নাগরিক হত্যার জন্য দায়ী যে বাহিনী, তাদেরই মুণ্ডচ্ছেদ করা হয়েছে।”
মার্কিন সেনা সূত্রের দাবি, গত শনিবার থেকে দফায় দফায় ইরানের একাধিক কৌশলগত ঘাঁটিতে আঘাত হানা হয়েছে। অভিযানে অংশ নিয়েছে অত্যাধুনিক বি-২ বোমারু বিমান। ওয়াশিংটনের ভাষ্য, এটি ছিল দীর্ঘ পরিকল্পিত সামরিক পদক্ষেপ, যার লক্ষ্য ছিল ইরানের সামরিক নেতৃত্ব ও অবকাঠামোকে পঙ্গু করে দেওয়া। মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, “শেষ দেখে ছাড়ব।” সেই হুঁশিয়ারিরই বাস্তব রূপ দেখল বিশ্ব।
ইরান সূত্রে যদিও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসেব এখনও প্রকাশ্যে আসেনি, তবে স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যাচ্ছে, রাজধানীর উপকণ্ঠে অবস্থিত গার্ডসের প্রধান কার্যালয় সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা এলাকা। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা Ali Khamenei–এর ঘনিষ্ঠ মহল এই হামলাকে “যুদ্ধ ঘোষণা” বলে আখ্যা দিয়েছে।
উল্লেখযোগ্য, ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর প্রতিষ্ঠিত হয় এই রিভলিউশনারি গার্ড বাহিনী। দেশের ইসলামিক আদর্শ রক্ষা, নীতি-নিয়ন্ত্রণ এবং ভিন্নমত দমনে তাদের ভূমিকা নিয়ে বহুদিন ধরেই আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনা রয়েছে। সাম্প্রতিক খামেনেই-বিরোধী আন্দোলনের সময়ও এই বাহিনীর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের অভিযোগ ওঠে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার দাবি, আন্দোলন দমনে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে ইরান-আমেরিকা সম্পর্ক আরও তলানিতে ঠেকল। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতার আশঙ্কা বাড়ছে। তেহরান পাল্টা জবাব দেবে কি না, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। বিশ্ব কূটনীতির মানচিত্রে ফের একবার অগ্নিস্ফুলিঙ্গ জ্বলে উঠেছে যার আঁচ কত দূর ছড়াবে, তা সময়ই বলবে।
