
বাংলাদেশের রাজনীতিতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে কেন্দ্র করে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত মিলল প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক পদক্ষেপে। সাবেক সচিব বিজন কান্তি সরকারকে সংখ্যালঘু বিষয়ক বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ করে একদিকে প্রশাসনিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়েছে, অন্যদিকে রাজনৈতিক বার্তাও স্পষ্ট করা হয়েছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। এই প্রথমবার কোনও প্রধানমন্ত্রী সংখ্যালঘুদের জন্য পৃথকভাবে এমন পদ সৃষ্টি করলেন, যা নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ।
বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ সচিবের জারি করা বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নিয়োগের কথা জানানো হয়। একই দিনে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সচিবালয়ে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ এবং বাংলাদেশ পূজা পরিষদের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকেই বিজন কান্তি সরকারের দায়িত্বের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। বৈঠক শেষে সংখ্যালঘু সংগঠনগুলির নেতারা জানান, তাঁদের দাবি ও সমস্যাগুলি প্রধানমন্ত্রী মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং বেশ কিছু বিষয়ে ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ নিছক প্রশাসনিক নয়, বরং কৌশলগত। সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের বড় অংশ একজোট হয়ে বিএনপিকে সমর্থন করায় দলটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য পায়। প্রায় ২০৮টি আসনে জয় এবং প্রায় অর্ধেক ভোট পাওয়ার পেছনে এই সমর্থন বড় কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে। ফলে আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনগুলিকে সামনে রেখে সেই সমর্থন ধরে রাখাই এখন প্রধান লক্ষ্য।
বৈঠকে সংখ্যালঘু নেতারা দীর্ঘদিনের দাবি যেমন সংখ্যালঘু কল্যাণ মন্ত্রক গঠন, সুরক্ষা কমিশন তৈরি এবং দুর্গাপুজোয় তিন দিনের ছুটির প্রস্তাব উত্থাপন করেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, এসব বিষয়ে প্রশাসনিক স্তরে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এছাড়া সংখ্যালঘুদের বেহাত সম্পত্তি পুনরুদ্ধার এবং অতীতে ঘটে যাওয়া নির্যাতনের ঘটনার তদন্ত নিয়েও আশ্বাস দেন তিনি।
উল্লেখযোগ্যভাবে, পূর্ববর্তী সরকারের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু সম্পত্তি রক্ষায় ব্যর্থতার অভিযোগও উঠে আসে আলোচনায়। এই প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মৃদু কটাক্ষ করে ইঙ্গিত দেন যে অতীতে এই ইস্যু যথাযথভাবে সামলানো হয়নি।
সংখ্যালঘুদের জন্য পৃথক সহকারী নিয়োগ শুধুমাত্র প্রশাসনিক উদ্যোগ নয়, বরং একটি সুস্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা। আসন্ন নির্বাচনের আগে এই পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হয় এবং সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে এর প্রভাব কী পড়ে, এখন সেটাই দেখার।
