
শ্রীরামপুর: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শ্রীরামপুর কেন্দ্র থেকে জাতীয় কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন রাজ্য কংগ্রেসের সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। কংগ্রেস প্রার্থীর নাম ঘোষণার পর রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় কংগ্রেস কার্যালয়ে অসন্তোষ প্রকাশ এবং ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এই প্রসঙ্গে শুভঙ্কর সরকার বলেছেন, “এই ধরনের ঘটনা আমাদের দলের পক্ষ থেকে সংঘটিত হয়নি। রাজ্য বা কেন্দ্রীয় স্তরে ক্ষমতাসীন যে কোনও রাজনৈতিক দলের কিছু এজেন্সি বিভিন্ন জায়গায় লোক ঢুকিয়ে এই ধরনের অসন্তোষ সৃষ্টি করে।”
শুভঙ্কর সরকার জানান, বহু জায়গায় কর্মীদের মধ্যে যে রোষ দেখা যাচ্ছে এবং নেতারা জোরে কথা বলছেন, তার মূল কারণ হলো দীর্ঘকাল নির্বাচনী লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা। তিনি বলেন, “আমরা কুড়ি বছর ধরে বহু জায়গায় ৪০ বছরের নির্বাচনে লড়াই করি নি। এবার আমরা শ্রীরামপুরের শালী গ্রামে চল্লিশ বছর পর প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। এ কারণেই কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।”
২০১৬ সালে জোট প্রার্থী হিসেবে শ্রীরামপুর কেন্দ্র থেকে লড়াই করেছিলেন শুভঙ্কর সরকার। সেই সময় প্রায় ৬৫ হাজার মানুষ তাকে সমর্থন করেছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, “প্রায় ৬ হাজার ভোট বেশি পেলে আমি জিততে পারতাম। এবার আশা করছি ফ্রি এন্ড ফেয়ার নির্বাচন হবে, যাতে মানুষ স্বাধীনভাবে নিজের ভোট দিতে পারে। মানুষ সচেতন এবং জানে কোথায় নিজের ভোট দেওয়া উচিত।”
শুভঙ্কর সরকার তার নির্বাচনী প্রচারণার সূচনা ঘরোয়া বৈঠক করে করেছেন, যেখানে দলের কর্মী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন। এই বৈঠকের মাধ্যমে তিনি প্রত্যক্ষভাবে দলের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং নির্বাচনী প্রস্তুতির দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। এছাড়াও, তিনি শ্রীরামপুরের মাহেশ জগন্নাথ মন্দির এবং একটি মসজিদ পরিদর্শন করেছেন, যেখানে স্থানীয় মানুষদের সঙ্গে সংলাপ করেছেন এবং নির্বাচনী সহমতের বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন।
শুভঙ্কর সরকারের মন্তব্য থেকে বোঝা যায় যে, তিনি নিজের প্রার্থীকে কংগ্রেসের নয়, বরং “শ্রীরামপুরবাসীর প্রার্থী” হিসেবে উপস্থাপন করছেন। এর মাধ্যমে তিনি স্থানীয় সমর্থকদের কাছে আরও ঘনিষ্ঠভাবে পৌঁছাতে চাইছেন এবং নির্বাচনী প্রচারণাকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যুক্ত করতে মনোনিবেশ করেছেন। কংগ্রেসের এই দৃষ্টিভঙ্গি ও শুভঙ্কর সরকারের সক্রিয় প্রচারণা শ্রীরামপুর কেন্দ্রের নির্বাচনী মহোলকে প্রভাবিত করতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
এই ঘটনার মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে যে, বিধানসভা নির্বাচনে শুধু প্রার্থীর জনপ্রিয়তা নয়, রাজনৈতিক এজেন্সি এবং মাঠের উত্তেজনাও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। শুভঙ্কর সরকারের উদ্যোগ এবং দলের কর্মীদের সমর্থন কেমন ফল বয়ে আনবে, তা নির্বাচনের দিনেই নির্ধারিত হবে।
