
কেরলের নির্বাচনী আবহে চাঞ্চল্য ছড়াল কংগ্রেস সাংসদ Shashi Tharoor-এর কনভয়ের উপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। শুক্রবার রাতে মালাপ্পুরম জেলার ওয়ান্দুরে নির্বাচনী প্রচারে যাওয়ার পথে আচমকাই তাঁর কনভয় আটকে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ঘটনায় এক নিরাপত্তারক্ষী গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে তিরুভাল্লি-চেলিথোডু সেতুর কাছে। শশী থারুরের টিমের দাবি, দুটি গাড়িতে করে তাঁরা প্রচারে যাচ্ছিলেন। সেই সময় হঠাৎই জনা আটেক ব্যক্তি রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে কনভয়ের পথ আটকে দেন। তারা গাড়ি এগোতে না দিয়ে বাইরে থেকে চিৎকার করতে থাকেন। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
অভিযোগ, পরিস্থিতি সামাল দিতে শশী থারুরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক রক্ষী গাড়ি থেকে নামেন এবং বাধা সরানোর চেষ্টা করেন। সেই সময়ই তাঁকে ঘিরে ধরে বেধড়ক মারধর করা হয়। এই হামলায় তিনি আহত হন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত অন্যরা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন এবং পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
ঘটনার পরই স্থানীয় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। নিরাপত্তারক্ষীর অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে দুটি গাড়ি। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, কেন এই হামলা হল এবং এর পেছনে কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদিও প্রাথমিকভাবে পুলিশের দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে সরাসরি রাজনৈতিক যোগসূত্রের প্রমাণ মেলেনি।
এক অভিযুক্ত, উম্মাকা নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়, যা নিয়ে জল্পনা বাড়ছে রাজনৈতিক মহলে।
উল্লেখ্য, আগামী ৯ এপ্রিল কেরলে এক দফায় বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ফল ঘোষণা হবে ৪ মে। এই নির্বাচনে ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট বা ইউডিএফ জোটের হয়ে প্রচারে নেমেছেন শশী থারুর। তিনি ইতিমধ্যেই দাবি করেছেন, এবারের নির্বাচনে কংগ্রেস-নেতৃত্বাধীন জোটই জয়ী হবে। মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি জানান, এই সিদ্ধান্ত দলের উচ্চ নেতৃত্বই নেবে।
ভোটের ঠিক আগে এই ধরনের হামলার ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদও যে চড়ছে, তা স্পষ্ট এই ঘটনাতেই।
