
নির্বাচনের মুখে উত্তর ২৪ পরগনার বাগদা এলাকায় বিজেপি শিবিরে বড়সড় ভাঙনের ছবি সামনে এল। শনিবার বিকেলে প্রায় ৫০ জন বিজেপি কর্মী দল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দেন। এই ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
জানা গিয়েছে, বাগদা বিধানসভার আষারু গ্রাম পঞ্চায়েতের জগদীশপুর এলাকা থেকে এই কর্মীরা দলবদল করেন। প্রদেশ কংগ্রেস নেতা অমিতাভ চক্রবর্তী এবং জেলা গ্রামীণ কংগ্রেস সভানেত্রী ইন্দ্রানী দত্ত চৌধুরী-র হাত ধরে তারা কংগ্রেসে যোগ দেন। যোগদান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এলাকায় কংগ্রেস কর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যায়।
দলবদল করা কর্মীদের দাবি, বিজেপির সাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে তারা অসন্তুষ্ট। তাদের কথায়, “হিন্দু-মুসলিম ভেদাভেদ করে রাজনীতি আমরা সমর্থন করি না। আমরা চাই সব মানুষ একসঙ্গে শান্তিতে বসবাস করুক।” এই বার্তাকেই সামনে রেখে তারা কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান।
এই যোগদানের ফলে বাগদা অঞ্চলে কংগ্রেসের সংগঠন কিছুটা শক্তিশালী হবে বলে দাবি করেছেন কংগ্রেস নেতৃত্ব। অমিতাভ চক্রবর্তী বলেন, সাধারণ মানুষের সমর্থন ধীরে ধীরে কংগ্রেসের দিকে ফিরছে এবং এই ধরনের যোগদান তারই প্রতিফলন।
তবে এই ঘটনায় গুরুত্ব দিতে নারাজ বিজেপি নেতৃত্ব। জেলা বিজেপি নেতা মালয় মণ্ডল বলেন, “৫০ জন নয়, হাতে গোনা কয়েকজন কংগ্রেসে যোগ দিয়েছে। ভোটের আগে সুবিধাবাদী রাজনীতির জন্যই তারা দল বদল করেছে। এতে বিজেপির কোনও প্রভাব পড়বে না।” তিনি আরও দাবি করেন, বাগদা আসনে বিজেপিই জয়লাভ করবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের আগে এই ধরনের দলবদল নতুন কিছু নয়, তবে এর প্রভাব স্থানীয় স্তরে কিছুটা হলেও পড়তে পারে। বিশেষ করে যেখানে লড়াই ত্রিমুখী, সেখানে অল্প সংখ্যক কর্মীর স্থানান্তরও সংগঠনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে চাপানউতোর বাড়ছে। বাগদার এই ঘটনাও সেই উত্তেজনারই প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।
