
কিংবদন্তি গায়িকা Asha Bhosle-কে ঘিরে এক বিতর্কে উত্তাল পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম। তাঁর প্রয়াণে শ্রদ্ধা জানানোকে কেন্দ্র করে সে দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় সংবাদ চ্যানেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে পাকিস্তান প্রশাসন। ঘটনাটি ঘিরে প্রশ্ন উঠছে শিল্প ও সংস্কৃতি কি সত্যিই সীমান্তের গণ্ডি মানে, নাকি রাজনৈতিক অবস্থানের কাছে তা বারবার বাধাগ্রস্ত হয়?
সম্প্রতি পাকিস্তানের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম Geo News আশা ভোঁসলের প্রয়াণের খবর সম্প্রচার করে এবং তাঁর দীর্ঘ সঙ্গীতজীবনের নানা উল্লেখযোগ্য দিক তুলে ধরে। এই প্রতিবেদনেই আপত্তি জানায় Pakistan Electronic Media Regulatory Authority (পেমরা)। সংস্থার তরফে ওই চ্যানেলকে কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ, একজন ভারতীয় শিল্পীর প্রতি অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া দেশীয় নীতির পরিপন্থী।
এই ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আনেন জিও নিউজের কর্ণধার Azhar Abbas। তিনি সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, শুধুমাত্র একজন আন্তর্জাতিক মানের শিল্পীকে সম্মান জানানোই যদি অপরাধ হয়, তবে তা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর আঘাত। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আশা ভোঁসলে জীবদ্দশায় পাকিস্তানের কিংবদন্তি শিল্পী Noor Jehan-কে বড় বোনের মতো শ্রদ্ধা করতেন এবং Nusrat Fateh Ali Khan-এর সঙ্গে কাজও করেছেন। অর্থাৎ দুই দেশের সঙ্গীতজগতের মধ্যে বরাবরই এক সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন ছিল।
ঘটনার পর পাকিস্তানের সাংবাদিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বহু প্রবীণ সাংবাদিক ও বিশ্লেষক প্রশ্ন তুলেছেন, শিল্পীরা যেখানে মানুষকে একত্রিত করার কাজ করেন, সেখানে রাষ্ট্র কেন বিভাজনের রাজনীতি চাপিয়ে দিতে চাইছে? তাঁদের মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার পরিপন্থী।
এর আগে পাকিস্তানে ভারতীয় চলচ্চিত্র ও বিনোদন জগতের ওপর নানা বিধিনিষেধ আরোপের নজির রয়েছে। তবে একজন কিংবদন্তি গায়িকার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনকেও যদি বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসা হয়, তা নিঃসন্দেহে সাংস্কৃতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক অস্বস্তিকর ইঙ্গিত বহন করে।
এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল, রাজনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন অনেক সময় শিল্প ও সংস্কৃতির স্বাভাবিক প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করে। অথচ সুরের জগতে কোনও সীমান্ত নেই এই বিশ্বাসই বরাবর বাঁচিয়ে রেখেছে দুই দেশের সাংস্কৃতিক বন্ধন।
