
মালদহের ইংরেজবাজারে কংগ্রেস প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারে বিজেপির উত্তরীয় পরা এক ব্যক্তির উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ঘটনাটির ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে কংগ্রেস, বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে দোষারোপের পালা।
ভাইরাল হওয়া ছবিতে দেখা যায়, কংগ্রেস প্রার্থী মাসুদ আলমের সঙ্গে এক ব্যক্তি বিজেপির উত্তরীয় পরে হাঁটছেন এবং তাঁকে আলিঙ্গনও করছেন। এই দৃশ্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে—এটি কি নিছক ভুল বোঝাবুঝি, নাকি পরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশল?
কংগ্রেসের অভিযোগ, পুরো ঘটনাটি তৃণমূল কংগ্রেসের ষড়যন্ত্র। তাঁদের দাবি, তৃণমূল কর্মীরাই বিজেপির উত্তরীয় পরে কংগ্রেস প্রার্থীর সঙ্গে হাঁটেন এবং সেই ছবি তুলে বিভ্রান্তি তৈরি করেন, যাতে বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে বোঝাপড়ার মিথ্যা বার্তা ছড়ানো যায়।
অন্যদিকে, বিজেপিও এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছে। বিজেপি জেলা নেতৃত্বের বক্তব্য, তৃণমূল রাজনৈতিকভাবে ব্যর্থ হয়ে এখন এ ধরনের “নাটক” করছে। তাঁদের দাবি, মানুষ ইতিমধ্যেই তৃণমূলের কৌশল বুঝে ফেলেছে এবং এবার ভোটে তার জবাব দেবে।
এই ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ব্যক্তির নাম শ্যামল দাস বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি তৃণমূল কর্মী হিসেবেই পরিচিত। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক বলে অভিযোগ উঠেছে, যদিও প্রশাসনের তরফে এ বিষয়ে কোনও নিশ্চিত তথ্য এখনও মেলেনি।
তৃণমূল কংগ্রেস অবশ্য পুরো বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে চাইছে না। দলের পক্ষ থেকে এটিকে “বালখিল্য ঘটনা” বলে অভিহিত করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে, এই ধরনের বিষয় নিয়ে অযথা রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে।
এদিকে, ঘটনাকে কেন্দ্র করে মালদহের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। কংগ্রেস ও বিজেপি দু’পক্ষই নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানাতে পারে বলে সূত্রের খবর। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের আগে এই ধরনের ঘটনাগুলি জনমতকে প্রভাবিত করার পাশাপাশি প্রচারের আবহকেও উত্তপ্ত করে তুলছে।
আগামী ভোটের আগে মালদহের এই ঘটনা রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিলেও, শেষ পর্যন্ত ভোটের ফলই আসল বার্তা দেবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
