
পশ্চিমবঙ্গের SIR (ভোটার তালিকা সংশোধন) সংক্রান্ত মামলায় ঐতিহাসিক রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। সংবিধানের আর্টিকল ১৪২ প্রয়োগ করে শীর্ষ আদালত এমন নির্দেশ দিয়েছে, যার ফলে ভোটার তালিকা “ফ্রিজ” হয়ে গেলেও ট্রাইব্যুনালে বৈধ প্রমাণিত হলে নাম অন্তর্ভুক্ত করে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন নাগরিকরা।
সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচনের নির্দিষ্ট সময়ের আগে ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করে দেওয়া হয় এবং এরপর আর কোনও পরিবর্তন করা যায় না। কিন্তু এই মামলায় বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ বিশেষ সাংবিধানিক ক্ষমতা ব্যবহার করে সেই সীমাবদ্ধতা শিথিল করেছে।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় ২১ তারিখে একটি তালিকা প্রকাশ করা হবে এবং ২৭ তারিখ ট্রাইব্যুনাল চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবে। যাঁদের নাম ট্রাইব্যুনালে অনুমোদিত হবে, তাঁদের নাম ভোটার তালিকায় যুক্ত করে নতুন ভোটার স্লিপ ইস্যু করতে হবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বহু ভোটার ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা দূর হয়েছে।
এই রায়ের পর রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “আজ আমার থেকে খুশি আর কেউ নেই।” তিনি দাবি করেন, তিনি শুরু থেকেই ভোটারদের অধিকার রক্ষার পক্ষে ছিলেন এবং এই বিষয়ে আইনি লড়াই চলছিল।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কও তৈরি হয়েছে। বাম নেতা ও আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য দাবি করেছেন, এই মামলার মূল লড়াই শুরু করেছিলেন একজন সাধারণ নাগরিক, মোস্তারি বানু। তাঁর মতে, ব্যক্তিগত কৃতিত্বের দাবি সঠিক নয়। পাশাপাশি তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ পূর্বেই নীতিগতভাবে স্পষ্ট ছিল এবং ১৪২ অনুচ্ছেদের মাধ্যমে আদালত “সম্পূর্ণ ন্যায়বিচার” নিশ্চিত করেছে।
আর্টিকল ১৪২ সুপ্রিম কোর্টকে এমন ক্ষমতা দেয় যাতে প্রয়োজনে আইনের ফাঁক পূরণ করে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা যায়। এই ক্ষমতা ব্যবহার করে আদালত ভোটাধিকার সংক্রান্ত জটিলতা দূর করার চেষ্টা করেছে।
এই রায়কে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক দোষারোপ শুরু হলেও, প্রশাসনিকভাবে এটি ভোটারদের জন্য বড় স্বস্তির সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নাগরিক অধিকারের প্রশ্নে এই রায় ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
