
ভারতীয় সংবিধানে সুপ্রিম কোর্টকে যে অসীম ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ধারা হল আর্টিকল ১৪২। এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, “সম্পূর্ণ ন্যায়বিচার” নিশ্চিত করার জন্য দেশের শীর্ষ আদালত প্রয়োজন হলে আইনগত শূন্যতা পূরণ করতে পারে। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের SIR (ভোটার তালিকা সংশোধন) সংক্রান্ত মামলায় এই অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করে বড় নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট, যার ফলে ভোটের ঠিক আগে নাম অন্তর্ভুক্তি নিয়েও জটিলতার সমাধান হয়েছে।
এই রায়ে বলা হয়েছে, যদি ভোটের মাত্র দু’দিন আগেও ট্রাইব্যুনালে কারও নাম সংক্রান্ত নিষ্পত্তি হয়, তবুও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা যাবে। ফলে বহু ভোটার ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা দূর হয়েছে।
আর্টিকল ১৪২ শুধু এই মামলাতেই নয়, ভারতের ইতিহাসে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে ব্যবহৃত হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হল ২০২৪ সালের চণ্ডীগড় মেয়র নির্বাচন মামলা। সেই সময় অভিযোগ ওঠে যে প্রিসাইডিং অফিসার বেআইনিভাবে ভোট বাতিল করে ফল ঘোষণা করেছিলেন। সুপ্রিম কোর্ট হস্তক্ষেপ করে ফল বাতিল করে আপ প্রার্থীকে মেয়র ঘোষণা করে।
আরেকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ভোপাল গ্যাস দুর্ঘটনা মামলা। ১৯৮৪ সালের ওই ভয়াবহ শিল্প দুর্ঘটনায় হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। ক্ষতিপূরণ ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আর্টিকল ১৪২ প্রয়োগ করে প্রায় ৪৭০ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
২০১৭ সালে জাতীয় সড়কের পাশে মদের দোকান নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রেও এই অনুচ্ছেদ ব্যবহার করে সুপ্রিম কোর্ট। যেহেতু সেই বিষয়ে নির্দিষ্ট আইন ছিল না, তাই জনস্বার্থে আদালত এই নির্দেশ দেয়।
বিবাহ-বিচ্ছেদ সংক্রান্ত একাধিক মামলাতেও আর্টিকল ১৪২ ব্যবহার করে আদালত ভরণপোষণ ও পারিবারিক বিরোধে চূড়ান্ত ন্যায় নিশ্চিত করেছে।
সবচেয়ে আলোচিত প্রয়োগগুলোর মধ্যে রয়েছে বাবরি মসজিদ মামলা। ওই ঐতিহাসিক রায়ে জমির মালিকানা নিয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার পাশাপাশি বিকল্প জমি দেওয়ার নির্দেশেও আদালত এই বিশেষ সাংবিধানিক ক্ষমতা ব্যবহার করে “সম্পূর্ণ ন্যায়বিচার” নিশ্চিত করার চেষ্টা করে।
আর্টিকল ১৪২ ভারতের বিচারব্যবস্থায় একটি “অন্তিম ন্যায়বিচারের অস্ত্র”, যা কঠিন ও জটিল মামলায় আইনকে মানবিক ও কার্যকর করে তোলে।
