
মহারাষ্ট্রের অমরাবতীর কাটোরা নাকা এলাকার একটি সাধারণ ফ্ল্যাট ঘিরে ভয়াবহ অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশের দাবি, ওই ফ্ল্যাটেই গড়ে উঠেছিল একটি সংগঠিত অপরাধচক্র, যেখানে প্রায় ২০০ নাবালিকা ও তরুণীকে টার্গেট করে শ্লীলতাহানি, ব্ল্যাকমেল এবং আপত্তিকর ভিডিও তৈরির মতো জঘন্য কাজ চলত।
তদন্তে উঠে এসেছে, এই পুরো চক্রটি একটি নির্দিষ্ট গ্রুপের মাধ্যমে পরিচালিত হতো। মূল অভিযুক্ত অয়ন আহমেদ তানভির আহমেদের নাম সামনে এসেছে, যাকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভিডিও রেকর্ডিং থেকে শুরু করে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে দেওয়ার কাজও পরিকল্পিতভাবে করা হতো।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত কয়েক মাস ধরে ওই ফ্ল্যাটে সন্দেহজনক লোকজনের আনাগোনা ক্রমেই বাড়ছিল। বিশেষ করে রাতের বেলায় মুখ ঢাকা অবস্থায় একাধিক তরুণীর আসা-যাওয়া নজরে পড়েছিল প্রতিবেশীদের। যদিও একাধিকবার ফ্ল্যাট মালিককে বিষয়টি জানানো হলেও তিনি কোনও পদক্ষেপ নেননি বলে অভিযোগ।
প্রতিবেশীদের একাংশের দাবি, এই অবহেলাই অপরাধীদের আরও সাহস জুগিয়েছে। ফলে এখন ফ্ল্যাট মালিককেও তদন্তের আওতায় আনার দাবি উঠছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ওই ফ্ল্যাটটিকে গোপন স্টুডিও হিসেবে ব্যবহার করা হতো। সেখানে নাবালিকাদের ভয় দেখিয়ে বা ফাঁদে ফেলে আপত্তিকর ভিডিও তৈরি করা হত, যা পরে ব্ল্যাকমেলিংয়ের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হতো। এই ভিডিওগুলি অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েই বহুজনকে নিয়ন্ত্রণ করা হত বলে অভিযোগ।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ ইতিমধ্যেই ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে এবং বিপুল পরিমাণ ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করেছে, যার মধ্যে রয়েছে ল্যাপটপ, হার্ড ডিস্ক ও মোবাইল ফোন। এগুলিকে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের অনুমান, এই চক্রের শিকার প্রকৃত সংখ্যাটি সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে। স্থানীয় সূত্রে দাবি, প্রায় ১৮০ জনেরও বেশি নাবালিকা এই চক্রের ফাঁদে পড়েছিল এবং ৩৫০টির বেশি আপত্তিকর ভিডিও তৈরি করা হয়েছে।
ঘটনার গুরুত্ব বুঝে ৪০ জনের বেশি সদস্য নিয়ে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি পকসো (POCSO) আইন, তথ্যপ্রযুক্তি আইন এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতা অনুযায়ী মামলা রুজু হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগীদের পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে এবং কেউ থানায় যেতে অস্বস্তি বোধ করলে তাদের কাছে গিয়ে জবানবন্দি নেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
এই ঘটনার পেছনে আরও কোনও বড় চক্র বা প্রভাবশালী যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থা। ইতিমধ্যেই পলাতক এক অভিযুক্তকে খুঁজে বের করতে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে।
অমরাবতীর এই ঘটনা শুধু একটি অপরাধ নয়, বরং একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্কের ইঙ্গিত দিচ্ছে যা এখন গোটা রাজ্যকে নাড়িয়ে দিয়েছে।
