
কংগ্রেস নেতা পবন খেরার (Pawan Khera) আইনি লড়াইয়ে বড় ধাক্কা দিল সুপ্রিম কোর্ট। ট্রানজিট আগাম জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন খারিজ করে দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। এই রায়ের পরই তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারির আশঙ্কা আরও ঘনীভূত হয়েছে, যা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা।
ঘটনার সূত্রপাত অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এবং তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে করা এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। ওই মন্তব্যের পর গুয়াহাটি ক্রাইম ব্রাঞ্চে পবন খেরার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয় এবং মানহানির অভিযোগ আনা হয়। এর পর তেলঙ্গনা হাইকোর্ট তাঁকে এক সপ্তাহের ট্রানজিট আগাম জামিন দিয়েছিল, যাতে তিনি অসমে গিয়ে নিয়ম মেনে আদালতে হাজির হতে পারেন।
তবে অসম সরকার সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যায়। পরবর্তীতে শীর্ষ আদালত ওই অন্তর্বর্তী সুরক্ষার উপর স্থগিতাদেশ দেয়। এরপর পবন খেরা আবেদন জানান, তাঁর ট্রানজিট জামিনের মেয়াদ আরও কয়েকদিন বাড়ানো হোক, কারণ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অসমে পৌঁছানো কঠিন হয়ে উঠেছে এবং সেখানকার আদালতও বন্ধ ছিল।
শুনানির সময় তাঁর আইনজীবী প্রবীণ কংগ্রেস নেতা অভিষেক মনু সিংভি আদালতের কাছে সময় বৃদ্ধির আবেদন জানান। আবেগঘন সুরে তিনি বলেন, “আমাকে কি মঙ্গলবার পর্যন্ত সুরক্ষা দেওয়া যায় না? আমি কি একজন সন্ত্রাসী?” তবে আদালত এই আবেদন গ্রহণ করেনি।
সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, পবন খেরাকে যদি আগাম জামিন চাইতে হয়, তবে তাঁকে সরাসরি গুয়াহাটি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে হবে। সেই আদালতই বিষয়টি স্বাধীনভাবে বিচার করবে এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে। শীর্ষ আদালত আরও জানায়, তাদের পর্যবেক্ষণ বা মন্তব্য হাইকোর্টকে প্রভাবিত করবে না।
এই রায়ের ফলে এখন পবন খেরাকে সরাসরি গুয়াহাটি হাইকোর্টে গিয়ে জামিনের জন্য আবেদন করতে হবে। তবে এই প্রক্রিয়া চলাকালীন তাঁর গ্রেফতারির সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এই ঘটনা শুধুমাত্র একটি আইনি লড়াই নয়, বরং এর রাজনৈতিক প্রতিফলনও ব্যাপক হতে পারে। কংগ্রেস শিবির এটিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে দেখলেও, শাসক শিবিরের দাবি—আইন সবার জন্য সমান এবং আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।
সুপ্রিম কোর্টের এই রায় কংগ্রেস শিবিরের জন্য বড় ধাক্কা এবং পবন খেরার ভবিষ্যৎ আইনি লড়াই এখন পুরোপুরি গুয়াহাটি হাইকোর্টের দিকে মুখ করে রয়েছে।
