
কোচবিহারে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভায় আজ দেখা গেল জনসমুদ্রের মতো ভিড়। রাসমেলার মাঠে আয়োজিত এই সভায় কোচবিহার জেলার একাধিক বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থীদের সমর্থনে জনতা উপস্থিত হয়। দক্ষিণ কোচবিহার, উত্তর কোচবিহার, মাথাভাঙ্গা, তুফানগঞ্জ ও নাটাবাড়ি সব কেন্দ্রের প্রার্থীদের উপস্থিতি ও সমর্থনে সভাটি কার্যত নির্বাচনী শক্তিপ্রদর্শনে পরিণত হয়।
এই জনসভার অন্যতম চমক ছিল দীর্ঘদিন পর তৃণমূলের পুরনো মুখ রবীন্দ্রনাথ ঘোষের উপস্থিতি। প্রার্থী ঘোষণা হওয়ার পর থেকে তাঁকে প্রকাশ্যে প্রচার বা জনসভায় দেখা যায়নি বলে বিভিন্ন মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। তবে আজ মুখ্যমন্ত্রীর সভায় তাঁর উপস্থিতি সেই সমস্ত গুঞ্জনে আপাত বিরতি দিল বলে রাজনৈতিক মহলের মত।
সূত্রের খবর, গতকাল কোচবিহারের একটি হোটেলে রাত্রিযাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকেই রবীন্দ্রনাথ ঘোষকে সঙ্গে নিয়ে আজ সকালে রাসমেলার মাঠের সভাস্থলে পৌঁছান তিনি। দীর্ঘ সময় পর একই মঞ্চে তাঁকে দেখা যাওয়ায় সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যায়।
সভায় কোচবিহারের একাধিক প্রার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার বার্তা দেন নেতৃত্ব। দক্ষিণ কোচবিহার থেকে অভিজিৎ দে ভৌমিক, উত্তর কোচবিহার থেকে পার্থ প্রতিম রায়, মাথাভাঙ্গা, তুফানগঞ্জ ও নাটাবাড়ির প্রার্থীদের উপস্থিতি মঞ্চকে একযোগে নির্বাচনী আবহে ভরিয়ে তোলে।
রবীন্দ্রনাথ ঘোষকে ঘিরে আগের অনুপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা চলছিল। প্রার্থী ঘোষণার পর থেকে তাঁর অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও আজকের উপস্থিতি সেই আলোচনাকে নতুন মোড় দেয়। যদিও এ বিষয়ে দলীয়ভাবে কোনও আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এখনও দেওয়া হয়নি।
কোচবিহারের আজকের জনসভা শুধু ভিড়ের কারণে নয়, রাজনৈতিক সমীকরণ ও পুরনো মুখের পুনরাবির্ভাবের কারণেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। ভোটের আগে এই সভা জেলার রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিল বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
