
মালদার বৈষ্ণবনগর বিধানসভা কেন্দ্রের অনন্তপুর আইটিআই মাঠে বিজেপি প্রার্থী রাজু কর্মকারের সমর্থনে অনুষ্ঠিত এক জনসভায় তীব্র রাজনৈতিক বক্তব্য রাখলেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্বশর্মা। সভা জুড়ে অনুপ্রবেশ, বেকারত্ব ও রাজ্য সরকারের নীতিকে কেন্দ্র করে একের পর এক আক্রমণ শানান তিনি।
সভা মঞ্চ থেকে অনুপ্রবেশ ইস্যুতে কড়া বার্তা দিয়ে হেমন্ত বিশ্বশর্মা বলেন, “বিজেপি ক্ষমতায় এলে সব অনুপ্রবেশকারীদের লাথি মেরে তাড়ানো হবে।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে সভাস্থলে উপস্থিত সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা যায়। তিনি অভিযোগ করেন, অনুপ্রবেশকারীদের সঙ্গে শাসকদলের এক ধরনের রাজনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে এবং তারাই নাকি তাঁদের ভোটব্যাঙ্ক।
বক্তব্যে তিনি রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি, সীমান্তে ফেন্সিংয়ের জন্য জমি দেওয়া হচ্ছে না বলেই অনুপ্রবেশ রোখা যাচ্ছে না। এই প্রসঙ্গ তুলে তিনি সরাসরি রাজ্য প্রশাসনের সমালোচনা করেন।
মহিলাদের উদ্দেশে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরে হেমন্ত বিশ্বশর্মা বলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে অন্নপূর্ণা যোজনার মাধ্যমে মাসিক আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে এবং মাইক্রো ফাইন্যান্স ঋণ শোধের জন্য মহিলাদের এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত সাহায্য করা হবে।
সভা থেকে তিনি আমিষ-নিরামিষ প্রসঙ্গ টেনেও রাজনৈতিক মন্তব্য করেন এবং বলেন, আসামে মানুষ স্বাধীনভাবে খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখছে। এই প্রসঙ্গে তাঁর একটি মন্তব্য ঘিরেও রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।
বাবরি মসজিদ ইস্যু নিয়েও তিনি সুর চড়ান এবং আসাম ও পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক ফলাফল নিয়ে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, আসামে বিজেপি বড় জয় পাবে এবং পশ্চিমবঙ্গেও দলের শক্তিশালী ফল হবে।
সভা শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, জনতার উচ্ছ্বাস দেখে তাঁর বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়েছে যে বাংলায় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। একইসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ভোটাররা ভয়মুক্তভাবে ভোট দিলে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসবে।
এই সভাকে কেন্দ্র করে মালদার রাজনৈতিক পারদ আরও চড়েছে। ভোটের আগে এই ধরনের কড়া মন্তব্যে জেলাজুড়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক ও আলোচনার ঝড়।
