
বলিউডে শুটিং সেটের অমানবিক কাজের পরিবেশ নিয়ে এবার সরব হলেন অভিনেতা রাজকুমার রাও ও অভিনেত্রী সানয়া মালহোত্র। তাঁদের সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে ইন্ডাস্ট্রিতে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা ও বিতর্ক। নেটফ্লিক্সে সদ্য মুক্তি পাওয়া ছবি ‘টোস্টার’-এর প্রচারে এসে তাঁরা দাবি করেন, অনেক বড় প্রযোজনা সংস্থার সেটে এখনও কলাকুশলীদের মৌলিক সুবিধা পর্যন্ত ঠিকভাবে দেওয়া হয় না।
সানয়া মালহোত্র জানান, অনেক সময় শুটিং চলাকালীন লাঞ্চ ব্রেক পর্যন্ত দেওয়া হয় না। অর্থাৎ টানা কয়েক ঘণ্টা কাজ করতে হয় বিরতি ছাড়াই। তাঁর কথায়, “শুধু অভিনেতা নয়, পুরো ক্রু-ই এর ভুক্তভোগী হন। সময় ও খরচ বাঁচাতে অনেক প্রযোজক খাবার বা বিরতির বিষয়টাকে গুরুত্ব দেন না।” তাঁর এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই চলচ্চিত্র মহলে আলোড়ন তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে রাজকুমার রাও প্রশ্ন তোলেন দীর্ঘ শিফটের কাজ নিয়ে। তাঁর মতে, দুপুর সাড়ে বারোটায় শুটিং শুরু করে টানা বিকেল পর্যন্ত কাজ চালিয়ে নেওয়া অমানবিক। তিনি বলেন, “এক ঘণ্টার লাঞ্চ ব্রেক রাখলে সবাই স্বাভাবিকভাবে খেয়ে আবার কাজে ফিরতে পারে। কিন্তু বাস্তবে সেটে অনেক সময় তা মানা হয় না।” তিনি আরও জানান, শুধু অভিনেতারা নয়, লাইটম্যান, টেকনিশিয়ানসহ সকল কর্মীরাই এই সমস্যার শিকার।
এই আলোচনায় যুক্ত হয়েছেন অভিনেত্রী অর্চনা পুরণ সিংও। তিনি দাবি করেন, কিছু প্রযোজনা সংস্থায় খাবার বরাদ্দ এতটাই সীমিত থাকে যে ক্রু সদস্যদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। এমনকি নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি খাবার নেওয়া নিয়েও কড়াকড়ি থাকে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তবে ‘টোস্টার’ ছবির সেটে পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে ভালো ছিল বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। রাজকুমার ও তাঁর প্রযোজনা সংস্থা নাকি কলাকুশলীদের আরামদায়ক পরিবেশ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। সেটে খাবার, বিরতি এবং মানবিক আচরণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও প্রশ্ন উঠছে বলিউডের শুটিং সংস্কৃতি নিয়ে। দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, বিশ্রামের অভাব এবং মৌলিক সুবিধার ঘাটতি সব মিলিয়ে ইন্ডাস্ট্রির ভিতরকার বাস্তব চিত্র সামনে আসতেই শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। এখন দেখার বিষয়, এই অভিযোগের পর প্রযোজনা সংস্থাগুলি আদৌ কোনো পরিবর্তনের পথে হাঁটে কি না।
