
কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে হঠাৎই বড় বিতর্কে জড়ালেন কবি Srijato Bandyopadhyay। তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত, আর সেই খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সংস্কৃতি জগৎ—সব জায়গায় শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া।
জানা গিয়েছে, একটি পুরনো মামলার প্রেক্ষিতেই এই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। তবে নির্বাচনকালীন পরিস্থিতিতে এই পদক্ষেপের সময় নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। সূত্রের খবর, Election Commission of India-এর নির্দেশ মেনেই এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কমিশনের যুক্তি, ভোটের সময় কোনও প্ররোচনামূলক বক্তব্য বা পরিস্থিতি তৈরি হলে তা আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে পারে। সেই আশঙ্কা থেকেই এই ‘প্রিভেন্টিভ’ বা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
যদিও এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি শ্রীজাত নিজে। ফলে তাঁর অবস্থান কী, তা স্পষ্ট নয়। তবে পুলিশ প্রশাসন ইতিমধ্যেই আদালতের নির্দেশ কার্যকর করতে তৎপর হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
এদিকে, ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে উঠেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা Joyprakash Majumdar অভিযোগ করেছেন, “বাংলার কৃষ্টি-সংস্কৃতির উপর আঘাত হানার চেষ্টা চলছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই এই পদক্ষেপ।” তাঁর দাবি, বিরোধী শক্তির প্ররোচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, বিজেপি নেতৃত্ব সম্পূর্ণ উল্টো সুরে কথা বলেছে। বিজেপি নেতা Debjit Sarkar বলেন, “এটি আদালতের সিদ্ধান্ত। এখানে রাজনীতির কোনও ভূমিকা নেই। আইন আইনের পথেই চলছে।” তাঁর বক্তব্য, তৃণমূল ভোটের আগে ইস্যু তৈরির চেষ্টা করছে।
রাজনীতির বাইরেও এই ঘটনায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে সংস্কৃতি মহলে। বিশিষ্ট সাহিত্যিক Shirshendu Mukhopadhyay-সহ বহু বুদ্ধিজীবী প্রশ্ন তুলেছেন একজন কবির বিরুদ্ধে এভাবে পদক্ষেপ নেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত? তাঁদের মতে, এতে বাকস্বাধীনতা ও সৃজনশীলতার উপর চাপ তৈরি হতে পারে।
সামাজিক মাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা। অনেকেই এটিকে গণতান্ত্রিক পরিসরের সংকোচন হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ বলছেন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়াই উচিত।
ভোটের মুখে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক আবহ আরও গরম হয়ে উঠেছে। এখন নজর, পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয় এবং এই বিতর্ক নির্বাচনে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে।
