
কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলাকে পাখির চোখ করে ঝাঁপিয়ে পড়েছে বিজেপি। আর সেই লড়াইকে আরও জোরদার করতে এবার দীর্ঘ সময় রাজ্যেই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Amit Shah। দলীয় সূত্রে খবর, আগামী ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত তিনি পশ্চিমবঙ্গেই থাকবেন এবং সরাসরি নির্বাচনী কৌশল তদারকি করবেন।
মাঝখানে সংসদের বিশেষ অধিবেশনের জন্য স্বল্প বিরতি থাকলেও, প্রায় টানা ১৫ দিন রাজ্যে থেকেই প্রচার চালাবেন শাহ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এইভাবে দীর্ঘ সময় একটি রাজ্যে অবস্থান করা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং তা থেকে স্পষ্ট ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে বিজেপি কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে।
ইতিমধ্যেই উত্তরবঙ্গের প্রচার পর্ব শেষ করেছেন Amit Shah। এখন তাঁর মূল লক্ষ্য দক্ষিণবঙ্গ। কারণ, এখনও বাকি থাকা ১৪২টি বিধানসভা আসনের বড় অংশই এই অঞ্চলে। বিজেপির কৌশল অনুযায়ী, দক্ষিণবঙ্গে সংগঠন মজবুত করাই এখন প্রধান লক্ষ্য।
শুধু জনসভা বা রোড শো নয়, সংগঠনের ভিত শক্ত করতেও জোর দিচ্ছেন শাহ। মঙ্গলবার গভীর রাতে কলকাতায় এক গুরুত্বপূর্ণ রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন তিনি। সেখানে বিজেপির একাধিক সাংগঠনিক জেলার নেতা, কর্মী ও প্রবাসী দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে প্রায় চার ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনা হয়।
এই বৈঠকে মূলত বুথ স্তরের সংগঠনকে আরও সক্রিয় করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্রে দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে যাতে নির্বাচনের দিন কোনও ধরনের সমন্বয়ের অভাব না থাকে। নিচুতলার কর্মীদের সক্রিয়তা বাড়াতে কড়া বার্তাও দেন তিনি।
বুধবার সকালেও থেমে থাকেননি শাহ। একাধিক প্রার্থীর সঙ্গে আলাদা করে বৈঠক করে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেন। কোথায় কী সমস্যা রয়েছে, প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কীভাবে পাল্টা কৌশল নেওয়া যায় এসব নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এই ‘ক্যাম্পিং’ কেবল প্রচারের জন্য নয়, বরং পুরো নির্বাচনী যুদ্ধে সরাসরি নেতৃত্ব দেওয়ার কৌশল। এতে দলের কর্মীদের মনোবল যেমন বাড়ছে, তেমনই ভোটের আগে সংগঠনকে আরও চাঙ্গা করতেও সাহায্য করছে।
এখন প্রশ্ন একটাই ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত শাহের এই নিবিড় উপস্থিতি বাংলার নির্বাচনী ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলবে? তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটিতে ফাটল ধরাতে পারবে কি গেরুয়া শিবির? সেই উত্তর মিলবে ভোটের ফলেই।
