
কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক একদিন আগে ভোটার তালিকা নিয়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হল পশ্চিমবঙ্গে। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত সাপ্লিমেন্টারি তালিকা অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনালের রায়ের ভিত্তিতে মাত্র ১৩৬ জন ভোটার প্রথম দফায় ভোট দেওয়ার অধিকার পেয়েছেন। অথচ কয়েক লক্ষ নয়, প্রায় ২৭ লক্ষ আবেদনকারীর ভাগ্য এখনও অনিশ্চিত এই তথ্য সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে।
সূত্র অনুযায়ী, Supreme Court of India সংবিধানের ১৪২ ধারা প্রয়োগ করে নির্দেশ দিয়েছিল, ২১ এপ্রিল পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালে যাঁদের নাম নিষ্পত্তি হবে এবং ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে, তাঁরা ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোটে অংশ নিতে পারবেন। সেই নির্দেশ মেনে ভোররাতে তালিকা প্রকাশ করে Election Commission of India। কিন্তু সেই তালিকায় মাত্র ১৩৬ জনের নাম থাকায় প্রশ্ন উঠেছে গোটা প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা নিয়ে।
অন্যদিকে, তালিকা প্রকাশের পরই সরব হয়েছে শাসকদল। তৃণমূলের রাজ্য সহ-সভাপতি Joyprakash Majumdar কড়া ভাষায় কমিশনকে আক্রমণ করে বলেন, “তিন সপ্তাহে মাত্র ১৩৬ জনের নামের নিষ্পত্তি হয়েছে এ যেন গরম তাওয়ায় জলের ছিটে। ২৭ লক্ষ মানুষ কী দোষ করেছে? এই কমিশন মানুষের অধিকার কেড়ে নিচ্ছে।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।
ঘটনার পটভূমিতে রয়েছে এসআইআর বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন প্রক্রিয়া। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় প্রায় ৬০ লক্ষ নাম বিবেচনাধীন ছিল। পরে বিচারকদের মাধ্যমে সেই নামগুলির যাচাই হয়। যাঁদের নাম তালিকায় ওঠেনি, তাঁরা ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হন। সেই আবেদনগুলিরই নিষ্পত্তির ভিত্তিতে নতুন তালিকা তৈরি হয়েছে।
তবে বিতর্ক এখানেই শেষ নয়। প্রকাশিত তালিকায় দেখা গেছে, ট্রাইব্যুনালের নিষ্পত্তি হওয়া নামের মধ্যেও ২ জন ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। যদিও ট্রাইব্যুনাল আগে জানিয়েছিল, ভোটারদের বক্তব্য না শুনে কোনও নাম বাদ দেওয়া হবে না। ফলে এই বাদ পড়া নিয়েও উঠছে একাধিক প্রশ্ন।
অন্যদিকে বিজেপির পক্ষ থেকে ভিন্ন সুর শোনা গেছে। বিজেপি নেতা Rahul Sinha বলেন, “যাঁদের কাছে যথাযথ তথ্যপ্রমাণ ছিল না, তাঁদের নাম বাদ পড়েছে। এখন যাঁরা তথ্য দিতে পারছেন, তাঁদের নামই তালিকায় আসছে। বিচার প্রক্রিয়া ঠিকভাবেই চলছে।”
ভোটের মুখে এই তালিকা প্রকাশ ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে। এখন দেখার, পরবর্তী ধাপে আরও কতজন ভোটাধিকার ফিরে পান এবং এই ইস্যু নির্বাচনের ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলে।
