
উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া এখন রাজ্য রাজনীতির হটস্পট। ভোটের ঠিক আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিয়ো ঘিরে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। সেই ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, এক ব্যক্তি বাইক র্যালিতে অংশ নিতে আসা সমর্থকদের হাতে টাকা তুলে দিচ্ছেন। অভিযোগ উঠেছে, ওই ব্যক্তি তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতা মান্নান আলি। যদিও ভিডিয়োটির সত্যতা এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি, তবুও তা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভাইরাল ভিডিয়োতে যে ব্যক্তিকে টাকা বিলি করতে দেখা যাচ্ছে, তিনি নিজেই নাকি সেটি নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে পোস্ট করেছিলেন। পরে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক বাড়তেই সেই পোস্ট মুছে ফেলা হয়। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মান্নান আলির পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি, যা সন্দেহ আরও বাড়িয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গতকালের একটি বাইক মিছিলকে ঘিরে। জানা গিয়েছে, তৃণমূল প্রার্থী Hamidul Rahaman-এর সমর্থনে এই মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল। দাবি করা হচ্ছে, ভাইরাল ভিডিয়োটি সেই মিছিল শুরুর ঠিক আগের মুহূর্তের। আর সেই সময়ই সমর্থকদের হাতে টাকা তুলে দেওয়ার দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি হয়।
এই ঘটনায় বিজেপি তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে। দলের স্থানীয় নেতা অভিযোগ করেন, “এখন প্রার্থীকে টাকা দিয়ে মানুষ জড়ো করতে হচ্ছে। তৃণমূলের সংগঠন ভেঙে পড়েছে।” তাঁর দাবি, এই ঘটনা প্রমাণ করে জনসমর্থনের ঘাটতি ঢাকতেই এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে, অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী হামিদুল রহমান। তিনি দাবি করেছেন, “নিজের লোকজন এসেছিল, তাদের চা-জল খাওয়ার জন্য কিছু টাকা দেওয়া হতেই পারে।” যদিও তাঁর এই ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিরোধীরা। তাঁদের মতে, ভোটের মুখে এই ধরনের আর্থিক লেনদেন আদৌ কতটা গ্রহণযোগ্য, তা নিয়ে তদন্ত হওয়া উচিত।
ভোটের আগে এই ধরনের ভাইরাল ভিডিয়ো জনমনে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। তবুও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী লড়াই যে আরও তীব্র হবে, তা বলাই যায়।
ভাইরাল ভিডিয়োই এখন চোপড়ার রাজনীতিতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে আর তার আঁচ পৌঁছে গেছে গোটা রাজ্যে।
