
কলকাতায় আর্থিক দুর্নীতির মামলায় নতুন করে বিস্ফোরণ ঘটাল Enforcement Directorate (ইডি)। ব্যবসায়ী Jay Kamdar-কে গ্রেফতারের পর আদালতে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ইডির দাবি, মাত্র চার মাসের মধ্যেই জয় কামদারের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা যা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে।
তদন্তকারীদের দাবি, এই বিপুল অঙ্কের টাকা কোনও স্বাভাবিক ব্যবসায়িক লেনদেন নয়। বরং এর পিছনে রয়েছে একাধিক ভুয়ো সংস্থা এবং জটিল আর্থিক জাল। ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, অন্তত ২৫টি ভুয়ো সংস্থাকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেগুলির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে একটি সংস্থার মাধ্যমে প্রায় ৪০ কোটি টাকা ট্রান্সফার করা হয়েছে বিভিন্ন সন্দেহজনক অ্যাকাউন্টে।
আরও উদ্বেগজনক তথ্য হল, একটি ভুয়ো সংস্থার সঙ্গে প্রায় ১১০০ কোটি টাকার লেনদেনের হদিশ মিলেছে। তারই একটি অংশ হিসেবে ৫০০ কোটি টাকা জয় কামদারের অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে বলে দাবি তদন্তকারীদের। এই বিপুল অঙ্কের অর্থ কোথা থেকে এল, কারা এর সঙ্গে যুক্ত তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এর আগেও জয় কামদারের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে নগদ প্রায় দেড় কোটি টাকা উদ্ধার করেছিল ইডি। পাশাপাশি বেশ কিছু ডিজিটাল ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করা হয়, যেগুলি থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে বলে দাবি তদন্তকারী সংস্থার। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই এই বিশাল আর্থিক চক্রের ইঙ্গিত মিলেছে।
ইডি আরও দাবি করেছে, জয় কামদার একা নন তাঁর পিছনে রয়েছে একাধিক ‘রাঘব বোয়াল’। বিশেষ করে Sona Pappu নামের এক ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে জয় কামদারের সংস্থা থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা জমা পড়ার তথ্য সামনে এসেছে। তদন্তকারীদের মতে, এই আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে আরও অনেকেই লাভবান হয়েছেন।
গ্রেফতারের পর জয় কামদার অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে R. G. Kar Medical College and Hospital-এ ভর্তি করা হয়। আদালতের নির্দেশে বর্তমানে হাসপাতালেই জেল হেফাজতে রাখা হয়েছে তাঁকে, কড়া নিরাপত্তার মধ্যে। আদালত জানিয়েছে, তিনি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত এই ব্যবস্থাই বহাল থাকবে।
কোটি কোটি টাকার এই আর্থিক কেলেঙ্কারি এখন বড় আকার নিতে চলেছে বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা। জয় কামদারকে জিজ্ঞাসাবাদে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসতে পারে এমনই আশঙ্কা ও জল্পনা তৈরি হয়েছে।
