
নয়াদিল্লি: ভারতীয় অ্যাথলেটিক্সে ডোপিং সমস্যাকে ঘিরে ফের বড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা অ্যাথলেটিক্স ইন্টেগ্রিটি ইউনিট ভারতের অ্যাথলেটিক্স ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ ঝুঁকির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভারত এখন “ক্যাটাগরি এ” শ্রেণিভুক্ত দেশ হিসেবে গণ্য হবে, যেখানে ডোপিংয়ের সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি বলে মনে করা হয়।
সংস্থার সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে ভারতে ডোপিং সংক্রান্ত নিয়মভঙ্গের সংখ্যা ক্রমাগত বেড়েছে। ২০২২ সালে যেখানে এমন ঘটনার সংখ্যা ছিল ৪৮, তা ২০২৩ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ৬৩-এ। পরবর্তী বছরে সেই সংখ্যা আরও বেড়ে ৭১-এ পৌঁছায়। চলতি বছরেও ইতিমধ্যে একাধিক ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এই ধারাবাহিক বৃদ্ধিই ভারতের অবস্থানকে উদ্বেগজনক পর্যায়ে নিয়ে গেছে বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক সংস্থা।
এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারতীয় অ্যাথলেটদের উপর এখন থেকে আরও কঠোর নজরদারি চালানো হবে। প্রতিযোগিতার বাইরে হঠাৎ পরীক্ষা, প্রতিযোগিতার আগে রক্ত পরীক্ষা এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। বিদেশে থাকলেও অ্যাথলিটরা এই নজরদারির বাইরে থাকতে পারবেন না। সমস্ত নমুনা আন্তর্জাতিক মানের পরীক্ষাগারে যাচাই করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভারতের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী নয়। ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন। শুধুমাত্র নিয়ম তৈরি নয়, তার যথাযথ প্রয়োগই এখন মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত বলে মত তাদের।
এই সিদ্ধান্ত এমন সময়ে এসেছে যখন ভারতের সামনে রয়েছে এশিয়ান গেমস ও কমনওয়েলথ গেমসের মতো বড় প্রতিযোগিতা। ফলে দেশের ক্রীড়াবিদদের উপর মানসিক ও প্রশাসনিক চাপ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে ভারতীয় অ্যাথলেটিক্স সংস্থা জানিয়েছে, এই পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদে ক্রীড়াক্ষেত্রে শৃঙ্খলা আনতে সাহায্য করবে।
ফেডারেশনের তরফে আরও বলা হয়েছে, ডোপিং রোধে কোচ, সহকারী এবং সংশ্লিষ্ট সকল স্তরে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে এই সমস্যাকে শুধুমাত্র নিয়ম ভঙ্গ নয়, একটি গুরুতর অপরাধ হিসেবে দেখা হবে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক এই সিদ্ধান্ত ভারতীয় ক্রীড়াজগতের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। এখন নজর থাকবে, এই কঠোর নিয়মকানুন কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয় এবং দেশের ক্রীড়াবিদরা কীভাবে এই নতুন চ্যালেঞ্জের সঙ্গে মানিয়ে নেন।
