
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনার জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দামে আগুন। Iran শান্তি বৈঠক বয়কট করতেই হরমুজ প্রণালী ঘিরে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে। ফলে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী, আর তার প্রভাব পড়তে চলেছে ভারতের মতো আমদানি-নির্ভর দেশগুলির উপর।
সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, এশিয়ার বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এক লাফে প্রায় ৫.৩৭ শতাংশ বেড়ে পৌঁছেছে ৯৫.২৩ ডলারে। অন্যদিকে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দামও বেড়ে হয়েছে প্রায় ৮৮.৯৮ ডলার, যা ৬ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি নির্দেশ করছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে খুব শীঘ্রই ব্যারেল পিছু তেলের দাম ১০০ ডলার ছুঁয়ে ফেলতে পারে।
এই মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ হরমুজ প্রণালী। বিশ্বে তেল পরিবহণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহ হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে Strait of Hormuz কার্যত অচল হয়ে পড়ায় সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটছে। এর ফলেই বিশ্ববাজারে চাহিদা-জোগানের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে দাম বাড়ছে দ্রুত।
ভারতের ক্ষেত্রে এই পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। কারণ দেশের জ্বালানি চাহিদার বড় অংশই আমদানির উপর নির্ভরশীল। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেই তার সরাসরি প্রভাব পড়ে দেশের অর্থনীতিতে। পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়ার সম্ভাবনা যেমন রয়েছে, তেমনই পরিবহণ খরচও বাড়বে। এর জেরে বাস, ট্রাক, এমনকি বিমান ভাড়াও বেড়ে যেতে পারে।
শুধু পরিবহণ নয়, শিল্পক্ষেত্রেও এর বড় প্রভাব পড়বে। রং, টায়ার, রাসায়নিক শিল্পসহ বহু ক্ষেত্রেই উৎপাদন খরচ বাড়বে। সেই অতিরিক্ত খরচ শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের উপরেই চাপানো হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ফলে সামগ্রিকভাবে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা প্রবল।
গত মাসে যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে তেলের দাম ১১০ ডলারও ছাড়িয়ে গিয়েছিল। পরে সাময়িকভাবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও ফের উত্তেজনা বাড়তেই দাম আবার ঊর্ধ্বমুখী। সব মিলিয়ে, হরমুজের এই সংকট যদি দ্রুত না মেটে, তাহলে তার প্রভাব গোটা বিশ্বের অর্থনীতিতেই পড়বে আর তার বড় ধাক্কা সামলাতে হতে পারে ভারতকেও।
