
উপত্যকায় নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়াল শ্রীনগরে দুই মার্কিন নাগরিকের গ্রেপ্তারি। রবিবার শ্রীনগর বিমানবন্দর-এ রুটিন তল্লাশির সময় তাঁদের কাছ থেকে একটি স্যাটেলাইট ফোন উদ্ধার হয়। এই ঘটনায় প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে, কারণ ভারতের মতো সংবেদনশীল এলাকায় অনুমতি ছাড়া এ ধরনের ডিভাইস বহন করা আইনত দণ্ডনীয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আটক হওয়া দুই ব্যক্তির মধ্যে একজনের নাম জেফরি স্কট। তাঁদের ব্যাগ তল্লাশি করতেই বেরিয়ে আসে গারমিন সংস্থার একটি স্যাটেলাইট ফোন। ভারতে সরকারি অনুমতি ছাড়া এই ধরনের ফোন ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বিশেষ করে জম্মু ও কাশ্মীরের মতো স্পর্শকাতর অঞ্চলে এর ব্যবহার আরও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত। ফলে তাঁদের উদ্দেশ্য নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সন্তোষজনক কোনও উত্তর দিতে পারেননি ওই দুই বিদেশি। কেন তাঁরা এই ফোন নিয়ে এসেছিলেন, তা স্পষ্ট নয়। তাঁরা পর্যটক হিসেবে এসেছিলেন, নাকি অন্য কোনও উদ্দেশ্য ছিল সেটা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি। ইতিমধ্যেই তাঁদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে এবং বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
প্রশাসন জানিয়েছে, স্যাটেলাইট ফোন যেমন থুরায়া বা ইরিডিয়াম ডিভাইস সাধারণ মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে কাজ করে, ফলে এগুলি নজরদারির বাইরে যোগাযোগের সুযোগ দেয়। সেই কারণেই নিরাপত্তাজনিত কারণে এগুলির উপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এই ধরনের ফোন বহন বা ব্যবহার করতে হলে আগে থেকেই সরকারের লিখিত অনুমতি প্রয়োজন।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে এসেছে। সম্প্রতি দেশে একাধিক বিদেশি চক্রের কার্যকলাপ ধরা পড়েছে, যেখানে অবৈধভাবে ড্রোন ও অস্ত্র পাচারের অভিযোগ উঠেছে। গত মাসেই কয়েকজন বিদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, যারা নাকি ইউরোপ থেকে ড্রোন এনে জঙ্গি সংগঠনের হাতে তুলে দিচ্ছিল। সেই ঘটনার পর থেকেই গোটা দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও সতর্ক রাখা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে শ্রীনগরে স্যাটেলাইট ফোন-সহ দুই বিদেশির গ্রেপ্তারি নতুন করে জল্পনা তৈরি করেছে। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও সন্ত্রাসমূলক যোগের প্রমাণ মেলেনি, তবে তদন্তকারীরা কোনও সম্ভাবনাই উড়িয়ে দিচ্ছেন না। আপাতত নজরদারি ও জিজ্ঞাসাবাদ জোরদার করা হয়েছে।
উপত্যকায় নিরাপত্তা সংক্রান্ত যে কোনও ছোট ঘটনা এখন বড় ইঙ্গিত বহন করতে পারে, এই উপলব্ধি থেকেই সতর্ক রয়েছে প্রশাসন।
