
নন্দীগ্রামে ভোটের আগমুহূর্তে চাঞ্চল্যকর ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠল রাজনীতি। পূর্ব মেদিনীপুরের মহম্মদপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান শেখ হাবিবুল রহমান, যিনি নান্টু নামেও পরিচিত, ভোটারদের টাকা বিলির অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন। সোমবার গভীর রাতে এই ঘটনা সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
অভিযোগ অনুযায়ী, সোমবার রাতে মহম্মদপুর এলাকার একটি বুথের সামনে নির্বাচনী প্রচারে ছিলেন হাবিবুল। সেই সময়ই তিনি নাকি ভোটারদের হাতে টাকা তুলে দিচ্ছিলেন। স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা তাঁকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন বলে দাবি করেছেন। এরপরই ঘটনাস্থলে শুরু হয় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও বচসা। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এই ঘটনার একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, অভিযুক্ত নেতা নিজেই দাবি করছেন, “টাকা কোথায়? আমি তো শুধু ভোট প্রচারে এসেছি।” যদিও বিরোধীদের দাবি, এই বক্তব্য দিয়ে তিনি নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং হাবিবুলকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। রাতভর জিজ্ঞাসাবাদের পর মঙ্গলবার সকালে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয়। সূত্রের খবর, তাঁকে এদিনই আদালতে পেশ করা হতে পারে।
এই গ্রেফতারিকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিজেপির অভিযোগ, ভোটকে প্রভাবিত করতেই পরিকল্পিতভাবে টাকা বিলি করা হচ্ছিল। তাঁদের দাবি, এটি গণতন্ত্রের জন্য মারাত্মক হুমকি। এক বিজেপি নেতা বলেন, “এটা তো শুধু শুরু, ভোটের পরে আরও অনেক কিছু সামনে আসবে।”
অন্যদিকে তৃণমূল নেতৃত্ব পুরো ঘটনাকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছে। তাঁদের বক্তব্য, বিরোধীরা ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা অভিযোগ এনে তাঁদের নেতা-কর্মীদের ফাঁসাতে চাইছে। আসন্ন নির্বাচনে প্রভাব ফেলতেই এই ধরনের নাটক করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়েছে।
ঘটনার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে। সাধারণ মানুষও আতঙ্কে রয়েছেন, ভোটের আগে এমন ঘটনা তাঁদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।
নির্বাচনের আগে এই ঘটনা যে বড় রাজনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার, তদন্তে কী উঠে আসে এবং এই বিতর্ক শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়।
