
এক বছর কেটে গেল, কিন্তু দুঃস্বপ্ন এখনও তাজা। ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল পহেলগাম-এর বৈসরণ ভ্যালিতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ জঙ্গি হামলা আজও কাঁপিয়ে দেয় দেশকে। সেই হামলায় প্রাণ হারিয়েছিলেন ২৬ জন যাদের মধ্যে ২৫ জন পর্যটক। অভিযোগ, জঙ্গিরা পর্যটকদের ধর্ম জেনে মাথায় গুলি করে হত্যা করেছিল।
এই ঘটনার বর্ষপূর্তির ঠিক আগেই সামনে এসেছে বড় তথ্য। তদন্তকারী সংস্থা ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA) জানিয়েছে, এই হামলার মূল ষড়যন্ত্রকারী সাজিদ জাট এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। তবে তার অবস্থান নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র মিলেছে—সে নাকি পাকিস্তান-এই লুকিয়ে রয়েছে।
তদন্তে আরও জানা গেছে, সাজিদের আসল নাম হাবিবুল্লাহ তাবাসসুম। পরিচয় গোপন রাখতে সে বারবার নাম, ঠিকানা এমনকি চেহারাও বদলাত। তার কাছ থেকে পাকিস্তানি পরিচয়পত্র, বাড়ির ছবি এবং রাওয়ালপিন্ডির একটি সেফ হাউসে থাকার ভিডিও উদ্ধার হয়েছে। নথি অনুযায়ী, তার জন্ম ১৯৭৬ সালে এবং সে কাসুর জেলার বাসিন্দা।
NIA-র চার্জশিটে দাবি করা হয়েছে, সাজিদ জাট জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তইবা এবং তাদের সহযোগী সংগঠন ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’-এর সঙ্গে যুক্ত। এই সংগঠনগুলির সদস্যরাই সরাসরি হামলা চালিয়েছিল। তবে গোটা অপারেশনটি দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ করছিল সাজিদ নিজেই।
তদন্তকারীদের মতে, হামলার সময় সে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে জঙ্গিদের নির্দেশ দিচ্ছিল। শুধু এই একটি ঘটনা নয়, দীর্ঘদিন ধরেই কাশ্মীরে একাধিক জঙ্গি হামলার পিছনে তার হাত রয়েছে বলে সন্দেহ।
এদিকে জানা গেছে, ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডির মতো শহরে একাধিক সেফ হাউসে আশ্রয় নিয়ে সে লুকিয়ে থাকত। এমনকি তার পরিচয়পত্রে জন্মতারিখ ও অন্যান্য তথ্যও বারবার বদলানো হয়েছে, যাতে তাকে শনাক্ত করা কঠিন হয়।
এই নতুন তথ্য সামনে আসার পর আন্তর্জাতিক মহল ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলির মধ্যে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রশ্ন উঠছে—এত বড় হামলার মূলচক্রীকে এখনও কেন ধরা যায়নি?
তদন্তকারী সংস্থাগুলি এখন এই গোটা জঙ্গি নেটওয়ার্ক ভাঙার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে এক বছর পরেও বিচার না হওয়ায় নিহতদের পরিবারে ক্ষোভ বাড়ছে।
পহেলগামের সেই রক্তাক্ত দিন শুধু একটি সন্ত্রাসী হামলা নয়,, এটি দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সামনে এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এখন দেখার, কবে ধরা পড়ে এই নৃশংস ঘটনার আসল মাস্টারমাইন্ড।
