
আসন্ন West Bengal Assembly Election 2026-কে ঘিরে রাজ্যে অবাধ ও ভয়েরহীন ভোট নিশ্চিত করতে বড় সিদ্ধান্ত নিল Election Commission of India। ভোটের ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে মোটরসাইকেল চলাচলের উপর একাধিক কড়া বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা মাথায় রেখে কিছু ক্ষেত্রে দেওয়া হয়েছে বিশেষ ছাড়, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
কমিশনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ভোটের আগে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো ও আতঙ্ক ছড়ানো রুখতেই এই সিদ্ধান্ত। বহু ক্ষেত্রে দেখা যায়, বাইক বাহিনীর দাপটে ভোটাররা ভয় পান বা ভোট দিতে যেতে দ্বিধা করেন। সেই পরিস্থিতি এড়াতেই এই কড়াকড়ি বলে জানিয়েছে কমিশন।
সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত—ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে কোনও রাজনৈতিক ‘বাইক মিছিল’ করা যাবে না। এতে নির্বাচন প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে বলেই সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। প্রশাসনকে কড়া নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনওভাবেই এই নিয়ম ভাঙা না হয়।
শুধু তাই নয়, সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রেও সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মোটরবাইক চলাচল প্রায় বন্ধ থাকবে। আবার দিনের বেলায়, অর্থাৎ সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বাইকে ‘পিলিয়ন রাইডিং’ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অর্থাৎ চালকের পিছনে আর কাউকে বসিয়ে নিয়ে যাওয়া যাবে না।
তবে ভোটের দিন কিছুটা স্বস্তি মিলবে। ওই দিন পরিবার-পরিজনকে নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার সুবিধার্থে পিলিয়ন রাইডিংয়ে আংশিক ছাড় দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, জনজীবন স্বাভাবিক রাখতে কিছু পরিষেবাকে এই বিধিনিষেধের বাইরে রাখা হয়েছে। Zomato ও Swiggy-র মতো অনলাইন ডেলিভারি পরিষেবা চালু থাকবে। একইভাবে Ola, Uber এবং Rapido-র মতো অ্যাপ-ভিত্তিক বাইক ট্যাক্সিও চলবে স্বাভাবিক নিয়মে।
এছাড়া অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া, স্কুল পড়ুয়াদের আনা-নেওয়া বা জরুরি পারিবারিক প্রয়োজনে বাইক ব্যবহার করা যাবে। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে স্থানীয় থানার অনুমতি লাগতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে, ভোটের আগে এই কড়া পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হয় এবং ভোটারদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারে কিনা, এখন সেটাই দেখার।
