
দেশজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহে নাজেহাল সাধারণ মানুষ। ২০২৬ সালের এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে এসে পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে উঠেছে যে, বিশ্বের ২০টি উষ্ণতম শহরের মধ্যে ১৯টিই এখন ভারত-এর অন্তর্গত। এই তথ্য সামনে আসতেই উদ্বেগ বেড়েছে আবহাওয়াবিদ থেকে সাধারণ নাগরিক সকলের মধ্যেই।
বর্তমানে উত্তর, মধ্য ও পূর্ব ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকায় তাপমাত্রা লাগামছাড়া হারে বাড়ছে। পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম, পশ্চিম মেদিনীপুর ও আসানসোল-সহ একাধিক জায়গায় পারদ ছুঁয়েছে ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পাশাপাশি বিহার, উত্তরপ্রদেশ এবং ঝাড়খণ্ড-এর বহু এলাকাতেও তাপমাত্রা ৪৪ ডিগ্রির কাছাকাছি ঘোরাফেরা করছে। এমন পরিস্থিতিতে বাইরে বেরোনোই কার্যত দুঃসাধ্য হয়ে উঠছে।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, অন্তত ২২ থেকে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত এই তাপপ্রবাহের দাপট অব্যাহত থাকবে। বহু জায়গায় তাপমাত্রা ৪৩ থেকে ৪৫ ডিগ্রির মধ্যেই থাকতে পারে। ফলে আগামী কয়েকদিন আরও কঠিন হতে চলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, হঠাৎ এত তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণ কী? আবহাওয়াবিদদের মতে, একাধিক কারণ একসঙ্গে কাজ করছে। এপ্রিল মাসে আকাশ পরিষ্কার থাকায় সূর্যের তাপ সরাসরি ভূপৃষ্ঠে এসে পড়ছে। পাশাপাশি হিমালয় ও ইউরেশিয়া অঞ্চলে তুষারপাত কম হওয়ায় সেই তাপ প্রতিফলিত হচ্ছে না। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আসা শুষ্ক ‘লু’ হাওয়া, যা মেঘ গঠনে বাধা দিচ্ছে এবং বৃষ্টির সম্ভাবনা কমিয়ে দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করে জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতি জলবায়ু পরিবর্তনেরই সরাসরি প্রভাব। প্রতি বছর তাপপ্রবাহের তীব্রতা ও স্থায়িত্ব বাড়ছে, যা ভবিষ্যতের জন্য অশনিসঙ্কেত। প্রাক-বর্ষার বৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি থেকে মুক্তি মিলবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।
এই ভয়াবহ গরমে বাঁচতে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। নিয়মিত জল পান করতে হবে, দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত রোদ এড়িয়ে চলতে হবে। হালকা রঙের সুতির পোশাক পরা, ছাতা বা টুপি ব্যবহার করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের বাড়তি যত্ন নেওয়া উচিত।
দেশের আবহাওয়া এখন এক অস্বাভাবিক চ্যালেঞ্জের মুখে। প্রশ্ন একটাই, এই আগুনঝরা গরম থেকে মুক্তি কবে? এখনই সতর্ক না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
