
কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে পরিযায়ী শ্রমিকদের ফেরানো নিয়ে নতুন করে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। West Bengal Assembly Election 2026-এর আবহে গুজরাত থেকে বিশেষ ট্রেনে শ্রমিকদের বাংলায় ফেরানোর উদ্যোগকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি শাসক ও বিরোধী শিবির।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে Bharatiya Janata Party। শাসক দল All India Trinamool Congress-এর দাবি, পরিকল্পিতভাবে পরিযায়ী শ্রমিকদের প্রভাবিত করতে এই বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা আদর্শ নির্বাচনী আচরণবিধির পরিপন্থী। এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগও জানানো হয়েছে।
তৃণমূলের তরফে সাংসদ Derek O’Brien রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে একটি বিস্তারিত চিঠি পাঠিয়েছেন। সেখানে অভিযোগ করা হয়েছে, নিখরচায় ট্রেনের টিকিট, খাবার ও অন্যান্য সুবিধা দিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের নির্দিষ্ট ধারার উল্লেখ করে এটিকে সরাসরি ‘ঘুষ’ এবং ‘অন্যায় প্রভাব খাটানো’ বলেও দাবি করা হয়েছে।
তৃণমূলের বক্তব্য, সুরতের উধনা স্টেশন থেকে শ্রমিকদের বিদায়ের সময় দলীয় পতাকা ব্যবহার এবং রাজনৈতিক উপস্থিতি এই পুরো ঘটনাকে আরও সন্দেহজনক করে তুলেছে। তাঁদের অভিযোগ, একটি রাজনৈতিক দল কীভাবে সরকারি ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে নিজেদের নির্বাচনী সুবিধা আদায় করতে পারে, সেটিই বড় প্রশ্ন।
যদিও এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে বিজেপি। দলের রাজ্য সভাপতি Samik Bhattacharya জানিয়েছেন, পরিযায়ী শ্রমিকরা নিজের ইচ্ছাতেই বাড়ি ফিরছেন এবং এতে কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই। বরং তাঁদের দাবি, শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের অসন্তোষই এই প্রত্যাবর্তনের মূল কারণ।
বিজেপি সূত্রে খবর, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে শ্রমিকদের ফেরাতে মোট ৭১টি বিশেষ ট্রেনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই ঘটনায় সামনে আসা একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, ট্রেনে ওঠার সময় ভিড় সামলাতে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে, যা পরিস্থিতির গুরুত্বই তুলে ধরছে।
নির্বাচনী বিশ্লেষকদের মতে, পরিযায়ী শ্রমিকরা বহু আসনে গুরুত্বপূর্ণ ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে পরিচিত। উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় তাঁদের প্রভাব উল্লেখযোগ্য। ফলে তাঁদের ভোট কোন দিকে যাবে, তা নির্বাচনের ফলাফলে বড় ভূমিকা নিতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলের দাবি, পুরো ট্রেন পরিষেবার খরচ বিজেপির নির্বাচনী ব্যয়ের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হোক এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। এখন নজর Election Commission of India-এর দিকে, এই বিতর্কে তারা কী পদক্ষেপ নেয়, সেটাই দেখার।
