
নয়া দিল্লি: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে কড়া বার্তা দিল Election Commission of India। ভোটের আগে ইভিএম (EVM) ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন করে সতর্কতা জারি করে কমিশন জানিয়ে দিয়েছে, মেশিনে সামান্যতম কারচুপির চেষ্টা ধরা পড়লেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এমনকি বাতিল হতে পারে পুরো ভোটগ্রহণও।
কমিশন সূত্রে খবর, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের বোতাম বা ব্যালট ইউনিটে যদি কালি, আঠা, পারফিউম বা অন্য কোনও রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতি পাওয়া যায়, তাহলে সেটিকে সরাসরি ‘ট্যাম্পারিং’ বা কারচুপি হিসেবে ধরা হবে। ভোটারদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার অধিকার রক্ষা করতে এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছে কমিশন।
কেন এত কড়াকড়ি? নির্বাচন কমিশনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, অতীতে কিছু ক্ষেত্রে অভিযোগ উঠেছিল যে, ভোটার কাকে ভোট দিচ্ছেন তা বোঝার জন্য নানা কৌশল নেওয়া হচ্ছিল। যেমন—বোতামে বিশেষ গন্ধযুক্ত পারফিউম লাগিয়ে রাখা বা কালি দিয়ে চিহ্নিত করা, যাতে পরে তা শনাক্ত করা যায়। এই ধরনের অনৈতিক এবং বেআইনি প্রক্রিয়া বন্ধ করতেই এবার কঠোর নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
কমিশন আরও জানিয়েছে, প্রতিটি বুথের প্রিসাইডিং অফিসারদের বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ভোট শুরুর আগে এবং ভোট চলাকালীন নিয়মিতভাবে ইভিএম পরীক্ষা করতে হবে। প্রতিটি প্রার্থীর নাম, প্রতীক এবং বোতাম যেন পরিষ্কার থাকে, তা নিশ্চিত করাও তাঁদের কর্তব্য। কোথাও কোনও সন্দেহজনক বস্তু বা চিহ্ন চোখে পড়লেই সঙ্গে সঙ্গে তা রিপোর্ট করতে হবে রিটার্নিং অফিসার বা সেক্টর অফিসারকে।
এই ধরনের কোনও কারচুপি ধরা পড়লে শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধেই নয়, প্রয়োজনে পুরো বুথের ভোটগ্রহণ বাতিল করে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশও দিতে পারে কমিশন। পাশাপাশি জড়িতদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলাও দায়ের হতে পারে।
ভোটকে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ রাখতে বদ্ধপরিকর নির্বাচন কমিশন। তাই সাধারণ ভোটারদেরও সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। কোনও অস্বাভাবিকতা চোখে পড়লে তা সঙ্গে সঙ্গে কর্তৃপক্ষকে জানাতে বলা হয়েছে। এক কথায়, এবার ভোটে সামান্য অসতর্কতাও বড় বিপদের কারণ হতে পারে।
