
প্রথম দফার ভোট শুরুর আগেই মুর্শিদাবাদের ডোমকল রণক্ষেত্রের চেহারা নিল। বুধবার গভীর রাতে রায়পুর অঞ্চলের মোক্তারপুর কারিগরপাড়ায় তৃণমূল ও সিপিএম কর্মীদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, ধারালো অস্ত্র নিয়ে দু’পক্ষ একে অপরের উপর চড়াও হয়। এই ঘটনায় অন্তত চারজন গুরুতর জখম হয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথমে বচসা থেকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয় এবং পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। সিপিএম সমর্থক রাকিবুল আনসারী ও তাঁর বাবা মহবুল আনসারী গুরুতর জখম হন। অন্যদিকে তৃণমূলের আমিরউদ্দিন মন্ডল ও তাঁর ছেলে আলামিন মন্ডলও হামলার শিকার হন। আহতদের মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।
এই সংঘর্ষকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। সিপিএমের অভিযোগ, তাদের কর্মীদের উপর তৃণমূলের পক্ষ থেকেই হামলা চালানো হয়। অন্যদিকে তৃণমূলের দাবি, উল্টে সিপিএমের লোকজনই প্রথমে উসকানি দেয় এবং পরে হামলা করে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা এখনও বজায় রয়েছে।
অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের মাদারিহাটেও ভোটের আগের রাতে উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ, আলিপুরদুয়ার জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক মিঠুন ওরাওঁয়ের উপর হামলা চালানো হয়। বাড়ি ফেরার পথে তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এই ঘটনায় বিজেপি সরাসরি তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে। তাদের দাবি, শাসকদলের আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই এই হামলার সঙ্গে যুক্ত। যদিও তৃণমূল এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
দুই জায়গাতেই উত্তেজনার জেরে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় জওয়ান। এই আবহেই শুরু হয়েছে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ। তবে ভোটের আগের রাতে এই ধরনের সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বেড়েছে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে।
