
ভোটের ঠিক আগের রাতেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল মুর্শিদাবাদের নওদা বিধানসভা কেন্দ্র। শিবনগর এলাকায় গভীর রাতে বোমাবাজির অভিযোগ ঘিরে চরম আতঙ্ক ছড়িয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। ঘটনার পরপরই রাজনৈতিক তরজাও তুঙ্গে উঠেছে। এই কেন্দ্র থেকেই প্রার্থী হয়েছেন হুমায়ুন কবীর, আর সেই সূত্রেই অভিযোগের তীর ঘুরেছে তাঁর দল আমজনতা উন্নয়ন পার্টির দিকে।
স্থানীয়দের দাবি, রাতের অন্ধকারে আচমকা কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। রাস্তার উপরই বোমাবাজি করা হয় বলে অভিযোগ। উদ্দেশ্য ছিল ভোটের আগে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক সৃষ্টি করা। ঘটনায় অন্তত এক মহিলা আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তাঁকে দ্রুত স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়।
ঘটনাস্থল থেকে খুব কাছেই রয়েছে শিবনগর প্রাথমিক বিদ্যালয়, যেখানে ভোটগ্রহণ কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। মাত্র ৫০ মিটারের মধ্যেই এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যদিও ওই বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রয়েছে, তবুও কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
এই ঘটনার জন্য সরাসরি হুমায়ুন কবীরের অনুগামীদের দায়ী করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ আবু তাহের খান। তিনি অভিযোগ করেন, ভোটের আগে বিরোধী শিবির পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাস ছড়িয়ে পরিবেশ অশান্ত করার চেষ্টা করছে। ঘটনার খবর পেয়ে তিনি নিজেও এলাকায় পৌঁছে তীব্র প্রতিবাদ জানান।
অন্যদিকে, নির্বাচনের আগে এই ধরনের ঘটনার গুরুত্ব বুঝে নির্বাচন কমিশনও নড়েচড়ে বসেছে। পুরো ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে। ইতিমধ্যেই নওদা থানার পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে।
উল্লেখ্য, এর আগের রাতেও একই এলাকায় দুই তৃণমূল কর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বোমাবাজির অভিযোগ সামনে আসায় আতঙ্ক আরও বেড়েছে। সাধারণ ভোটারদের মধ্যে এখন একটাই প্রশ্ন, ভোটের দিনে নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত?
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর বাড়লেও, প্রশাসন দাবি করছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে ভোটের মুখে এমন বিস্ফোরক পরিস্থিতি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার উপর কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন দেখার।
