
পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ শুরু হতেই রাজনৈতিক তাপমাত্রা আরও চড়ল। বৃহস্পতিবার সকালে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে ভোটারদের উদ্দেশে বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিশেষ করে যুব সমাজ ও মহিলাদের বেশি সংখ্যায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তবে শুধু ভার্চুয়াল বার্তাতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, ভোটের দিনেই রাজ্যে সশরীরে উপস্থিত থেকে একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন তিনি। সঙ্গে রয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও।
রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটের দিন হেভিওয়েট নেতাদের এই উপস্থিতি নিছক প্রচার নয়, বরং একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। ‘স্ক্রিন ক্যাপচার’ কৌশলের মাধ্যমে ভোটারদের উপর মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব তৈরি করাই এর লক্ষ্য বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। অর্থাৎ, সোশ্যাল মিডিয়া ও সরাসরি উপস্থিতি—দুই দিক থেকেই প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে।
বৃহস্পতিবার মোদীর কর্মসূচি যথেষ্ট ব্যস্ত। সকালেই দমদম বিমানবন্দরে নামার পর তিনি হেলিকপ্টারে কৃষ্ণনগরে যান এবং সেখানে জনসভা করেন। এরপর মথুরাপুর এবং কাকদ্বীপে পরপর সভা করার কথা রয়েছে তাঁর। পাশাপাশি হাওড়ায় বেলুড় মঠ পরিদর্শন এবং সেখান থেকে সালকিয়া পর্যন্ত রোড শো করার পরিকল্পনাও রয়েছে। দিনের শেষে রাজভবনে থাকার কথা প্রধানমন্ত্রীর।
অন্যদিকে অমিত শাহও এদিন একাধিক জনসভা ও রোড শোতে অংশ নিচ্ছেন। হুগলির বলাগড়, আরামবাগের পুরশুড়া এবং উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে তাঁর সভা রয়েছে। এছাড়াও সল্টলেকে দলীয় দফতর থেকে ভোট পরিস্থিতির উপর নজর রাখার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে সূত্রের খবর।
বিজেপির এই জোড়া আক্রমণের মধ্যেই পাল্টা ময়দানে নেমেছে তৃণমূল কংগ্রেসও। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ দলের শীর্ষ নেতৃত্ব সক্রিয়ভাবে ভোটারদের উৎসাহিত করছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে তৃণমূল ভোটারদের নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এবং গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগে সকলকে এগিয়ে আসতে বলেছে।
ভোটের দিনেই রাজ্যে রাজনৈতিক লড়াই নতুন মাত্রা পেয়েছে। একদিকে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের জোরালো উপস্থিতি, অন্যদিকে তৃণমূলের সংগঠিত প্রচার, এই দুইয়ের টানাপোড়েনে ভোটের আবহ আরও জমে উঠেছে। এখন দেখার, এই কৌশল কতটা প্রভাব ফেলে ভোটের ফলাফলে।
