
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটে এক নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী রইল বীরভূমের বোলপুর। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ এবং ট্রাইবুনালের রায় থাকা সত্ত্বেও ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারলেন না প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী নন্দলাল বসু-র নাতি সুপ্রবুদ্ধ সেন ও তাঁর স্ত্রী দীপা সেন। ভোটকেন্দ্রে গিয়েও শেষ পর্যন্ত খালি হাতেই ফিরতে হয় অশীতিপর এই দম্পতিকে।
বৃহস্পতিবার সকালে নির্দিষ্ট বুথে উপস্থিত হন তাঁরা। কিন্তু সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম নেই। এই অবস্থায় সুপ্রবুদ্ধবাবু সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের কপি দেখালেও অভিযোগ, বুথের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা তা গ্রহণ করেননি। তাঁদের জানানো হয়, সিউড়ির জেলাশাসকের দফতর থেকে লিখিত অনুমতি নিয়ে আসতে হবে। বয়স ও শারীরিক অবস্থার কারণে সেই মুহূর্তে বোলপুর থেকে সিউড়ি যাওয়াও সম্ভব হয়নি তাঁদের পক্ষে। ফলে বাধ্য হয়ে ভোট না দিয়েই ফিরে যেতে হয়।
জানা গিয়েছে, বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া (SIR) চলাকালীন তাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে। এরপর ট্রাইবুনালের দ্বারস্থ হন তাঁরা এবং পরে বিষয়টি পৌঁছায় Supreme Court-এ। আদালত নির্দেশ দেয়, তাঁদের আবেদন বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে হবে। সেই নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও বাস্তবে ভোটাধিকার প্রয়োগ সম্ভব হল না।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সমস্ত নিয়ম মেনেই নথিপত্র জমা দিয়েছিলেন সুপ্রবুদ্ধবাবু ও তাঁর স্ত্রী। খসড়া তালিকায় তাঁদের নাম ‘বিবেচনাধীন’ তালিকায় ছিল। পরবর্তীতে তালিকা সংশোধনের আশা থাকলেও ভোটের দিন সেই নাম চূড়ান্ত তালিকায় দেখা যায়নি।
এই ঘটনায় ভোটের স্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। আইনি লড়াই জিতে নিয়েও একজন নাগরিক যদি ভোট দিতে না পারেন, তবে তা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য উদ্বেগজনক বলেই মনে করছেন অনেকেই।
