
প্রথম দফার ভোট মিটতেই নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এল উত্তরবঙ্গের Haldibari। অতিরিক্ত ইভিএম মেশিন ঘিরে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হলদিবাড়ির একটি বুথে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর ইভিএম সরানোর কাজ চলছিল। সেই সময়ই অভিযোগ ওঠে, এক সেক্টর অফিসারের গাড়িতে অতিরিক্ত একটি ইভিএম মেশিন রাখা ছিল এবং সেটি যথাযথ নিরাপত্তা ছাড়াই নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। বিষয়টি নজরে আসতেই স্থানীয় বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা গাড়িটি ঘিরে বিক্ষোভ শুরু করেন।
বিজেপির অভিযোগ, প্রশাসন ও শাসক দলের যোগসাজশে আসল ইভিএম বদলের চেষ্টা করা হচ্ছিল। তাঁদের দাবি, অতিরিক্ত ইভিএমের উপস্থিতি এবং নিরাপত্তার অভাব পুরো ঘটনাকে সন্দেহজনক করে তুলেছে। খবর ছড়িয়ে পড়তেই দ্রুত এলাকায় ভিড় জমে যায় এবং পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিশাল পুলিশবাহিনী ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী। দীর্ঘ সময় ধরে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে বচসা চলে। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয় যে, সংশ্লিষ্ট ইভিএমটি নির্দিষ্ট কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে সমস্ত রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে পরীক্ষা করা হবে এবং পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করা হবে।
এই আশ্বাসের পর কিছুটা শান্ত হয় পরিস্থিতি। তবে বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ কাটেনি বিজেপি নেতৃত্বের। তাঁরা দাবি করেছেন, পুরো ঘটনাটি নির্বাচন কমিশনের কাছে জানানো হবে এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তোলা হবে।
ঘটনার সময় উপস্থিত বিজেপি নেতৃত্বও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁদের বক্তব্য, ভোটের মতো সংবেদনশীল প্রক্রিয়ায় এ ধরনের গাফিলতি মেনে নেওয়া যায় না। অন্যদিকে শাসকদলের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রথম দফার ভোটে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় রেকর্ড পরিমাণ ভোট পড়েছে, যার মধ্যে কোচবিহার জেলাতেও উচ্চ ভোটের হার দেখা গিয়েছে। সেই প্রেক্ষিতেই এই ইভিএম বিতর্ক নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে।
ভোট মিটলেও উত্তাপ কমেনি। বরং এই ধরনের অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগে নির্বাচনের আবহ আরও তীব্র হয়ে উঠছে। এখন নজর নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপের দিকে, এই বিতর্কের শেষ কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, সেটাই দেখার।
