
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের উত্তেজনার মধ্যেই রাজনৈতিক মহলে নতুন চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করলেন Kazi Abdur Rahim। একসময় শাসক শিবিরের বিধায়ক থাকলেও টিকিট না পেয়ে তিনি সম্প্রতি কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন। আর নতুন দলে যোগ দিয়েই জনসভা থেকে প্রকাশ্যে নিজের অতীত সিদ্ধান্ত নিয়ে অনুশোচনা প্রকাশ করলেন তিনি।
উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ায় এক সভা থেকে হাতজোড় করে সাধারণ মানুষের কাছে ক্ষমা চান এই বিদায়ী বিধায়ক। তাঁর বক্তব্য, তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়াটা ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল। তিনি বলেন, “আমাকে ভুল বুঝবেন না। আমি সত্যিই ভুল করেছিলাম। আমাকে ব্যবহার করা হয়েছে, সেটা আগে বুঝতে পারিনি।” নিজের এই স্বীকারোক্তি ঘিরেই শুরু হয়েছে তুমুল রাজনৈতিক বিতর্ক।
প্রসঙ্গত, এবারের নির্বাচনে শাসকদল বহু বিদায়ী বিধায়ককে টিকিট দেয়নি, যার মধ্যে আব্দুর রহিমও রয়েছেন। এরপরই তিনি দলবদল করে কংগ্রেসে যোগ দেন এবং নতুন দলের হয়ে প্রচার শুরু করেন। জনসভা থেকে তিনি আরও দাবি করেন, শাসক দলে থাকাকালীন তিনি কাজ করার যথেষ্ট স্বাধীনতা পাননি, যার ফলে এলাকার উন্নয়নে প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব হয়নি।
তিনি জানান, প্রায় ৫৭ হাজার ভোটে জিতেও বাদুড়িয়ার মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারেননি। সেই দায় স্বীকার করেই তিনি জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। তাঁর কথায়, একজন মানুষ জীবনে ভুল করতেই পারেন, কিন্তু সেই ভুল বুঝে সংশোধনের চেষ্টা করাই আসল। তিনি নিজেকে অপরাধী নয়, বরং ভুল পথে চলা একজন মানুষ হিসেবেই তুলে ধরেন।
এই মন্তব্য ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। শাসক দলের পক্ষ থেকে কটাক্ষ করে বলা হয়েছে, জনসমর্থন না থাকায় হতাশা থেকেই এই ধরনের মন্তব্য করছেন তিনি। তাঁদের দাবি, গত পাঁচ বছরে তিনি কার্যত কোনও উন্নয়নমূলক কাজ করেননি, আর আসন্ন নির্বাচনে তাঁদের প্রার্থী বড় ব্যবধানে জয়ী হবেন।
অন্যদিকে বিরোধী শিবির এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে শাসক দলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের মুখে এই ধরনের মন্তব্য ভোটারদের মনে প্রভাব ফেলতে পারে এবং নির্বাচনের ফলাফলেও এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
নির্বাচনের আবহে এই ‘ক্ষমা প্রার্থনা’ এবং দলবদলের ঘটনা রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন দেখার, ভোটের ফলাফলে এর কতটা প্রভাব পড়ে।
