
দেশের রাজনীতিতে বড়সড় পালাবদল। শুক্রবার রাঘব চাড্ডা আনুষ্ঠানিকভাবে আম আদমি পার্টি (আপ) ছাড়ার ঘোষণা করে জানিয়েছেন, তিনি শীঘ্রই ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-তে যোগ দিচ্ছেন। দলীয় অন্দরের টানাপোড়েন এবং রাজ্যসভায় উপনেতার পদ থেকে অপসারণের কয়েক দিনের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত সামনে এল।
নয়াদিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠকে চাড্ডা জানান, তিনি একা নন। আপের রাজ্যসভার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদ সাংবিধানিক বিধান মেনে বিজেপির সঙ্গে একীভূত হওয়ার পথে হাঁটছেন। তাঁর সঙ্গে দল ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন সন্দীপ পাঠক এবং অশোক মিত্তল-সহ আরও কয়েকজন সাংসদ।
চাড্ডা আরও দাবি করেন, দলের আরও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মুখ, যেমন স্বাতী মালিওয়াল এবং প্রাক্তন ক্রিকেটার-রাজনীতিবিদ হরভজন সিং-ও বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন। যদি এই ভাঙন চূড়ান্ত রূপ নেয়, তাহলে রাজ্যসভায় আপের শক্তি মারাত্মকভাবে কমে গিয়ে মাত্র তিনজন সদস্য সঞ্জয় সিং, এন. ডি. গুপ্ত এবং বলবীর সিং সীচেওয়াল এ নেমে আসতে পারে।
নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় চাড্ডা বলেন, গত ১৫ বছরে যে আদর্শ নিয়ে তিনি আপে যোগ দিয়েছিলেন, দল এখন তা থেকে অনেকটাই সরে গেছে। তাঁর কথায়, “দল এখন আর দেশের স্বার্থে কাজ করছে না, বরং ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যই প্রাধান্য পাচ্ছে। আমি ভুল দলে সঠিক মানুষ ছিলাম।” তিনি আরও জানান, দেশের মানুষের মনোভাব এবং বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে নিজেকে মিলিয়ে নিতেই এই সিদ্ধান্ত।
এছাড়াও চাড্ডা নরেন্দ্র মোদী-র নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান, দৃঢ় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের মর্যাদা বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলি তাঁকে প্রভাবিত করেছে। একইসঙ্গে তিনি অমিত শাহ-সহ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
দলীয় সূত্রের খবর, খুব শিগগিরই চাড্ডা ও তাঁর অনুগামী সাংসদরা আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দেবেন। এই ঘটনাকে আপের সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় ভাঙন হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা আসন্ন রাজনৈতিক লড়াইয়ের আগে দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিল।
