
ভোটের আবহে ফের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায়। কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ পর্যবেক্ষকদের বিরুদ্ধে তৃণমূলের পক্ষ থেকে উঠল গুরুতর অভিযোগ রাতের তল্লাশি অভিযানের সময় দলের কর্মীদের বাড়িতে ঢুকে মহিলাদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করা হয়েছে বলে দাবি শাসকদলের।
তৃণমূলের অভিযোগ অনুযায়ী, রবিবার মধ্যরাতে ফলতা এলাকায় একাধিক তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। অভিযোগ, তল্লাশির নাম করে কিছু পুলিশ আধিকারিক ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা বাড়ির ভিতরে ঢুকে পড়েন, যখন বাড়ির পুরুষ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন না। সেই সময় পরিবারের মহিলাদের সঙ্গে অভব্য আচরণ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এই ঘটনায় সরাসরি নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল। তৃণমূলের দাবি, এটি পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা হয়েছে এবং বিজেপির ইশারাতেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। দলের তরফে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়া হবে এবং প্রয়োজনে এফআইআরও করা হতে পারে।
ফলতা এলাকার তৃণমূল প্রার্থীও অভিযোগ করেছেন, “তল্লাশির নামে ভয় দেখানো ও মহিলাদের অসম্মান করা হয়েছে। এটা গণতন্ত্রের পরিপন্থী কাজ।” তাঁর দাবি, ভোটের আগে শাসকদলকে ভয় দেখাতেই এই ধরনের অভিযান চালানো হচ্ছে।
অন্যদিকে, এই অভিযোগ পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছে বিরোধী শিবির। বিজেপির পাল্টা দাবি, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে এবং অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতেই এই ধরনের অভিযান চলছে। তাদের বক্তব্য, প্রথম দফার ভোট শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হওয়ায় শাসকদল আতঙ্কিত হয়ে মিথ্যা অভিযোগ তুলছে।
এই ঘটনার মাঝেই দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জায়গায় ভোট-পরবর্তী উত্তেজনা বাড়ছে। কোথাও সংঘর্ষ, কোথাও ভাঙচুর, কোথাও আবার হামলার অভিযোগ সব মিলিয়ে দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশকে আরও সতর্কভাবে কাজ করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি সব অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
ফলতা কাণ্ড এখন রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। ভোটের মাঝেই এই ধরনের অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে আরও চড়ছে রাজনৈতিক পারদ।
