
কলকাতা: ভোট পর্ব শেষ হতেই ফের সক্রিয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা Enforcement Directorate। পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবারও তলব করা হল রাজ্যের দুই মন্ত্রী Sujit Bose এবং Rathin Ghosh-কে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ৪ মে ভোটের ফল ঘোষণার ঠিক একদিন পর, অর্থাৎ ৬ মে তাঁদের হাজিরা দিতে বলা হয়েছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।
শুক্রবার সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দেন সুজিত বসু। দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের পর বেরিয়ে আসার সময় তাঁকে জানানো হয়, তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। বরং আগামী দফায় তাঁকে তাঁর অস্থাবর সম্পত্তি সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি সঙ্গে নিয়ে আসতে হবে। তদন্তকারীরা সেই নথি খতিয়ে দেখে দুর্নীতির সূত্র আরও গভীরে পৌঁছাতে চান।
উল্লেখ্য, এই মামলায় এর আগেও একাধিকবার তলব করা হয়েছিল সুজিত বসুকে। তবে বিধাননগর কেন্দ্রের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী ব্যস্ততার কারণ দেখিয়ে তিনি বারবার সময় চেয়েছিলেন। এমনকি হাজিরা থেকে অব্যাহতি পেতে Calcutta High Court-এর দ্বারস্থও হন তিনি। যদিও আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দেয়, তাঁকে নির্দিষ্ট দিনে ইডি দফতরে হাজিরা দিতেই হবে। সেই নির্দেশ মেনেই অবশেষে শুক্রবার তিনি হাজির হন।
অন্যদিকে, একই মামলায় তলব করা হয়েছে মধ্যমগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী রথীন ঘোষকেও। তাঁর ক্ষেত্রেও একই অভিযোগ—এর আগে বহুবার ডাকা হলেও ভোটের কারণে সময় চাওয়া হয়েছিল। এমনকি ২০২৩ সালে তাঁর বাড়িতেও তল্লাশি চালায় ইডি। তদন্তকারীদের বিশ্বাস, এই দুই নেতার বয়ান ও নথি থেকেই মামলার গুরুত্বপূর্ণ সূত্র মিলতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফল ঘোষণার পরদিনই এই তলব নিছক কাকতালীয় নয়। বরং এটি রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে। একদিকে ফলাফলের উত্তেজনা, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সংস্থার কড়া পদক্ষেপ—দুই মিলিয়ে পরিস্থিতি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠছে।
এই তদন্ত কি শুধুই আইনি প্রক্রিয়া, নাকি এর পিছনে রয়েছে বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট? এখন নজর ৬ মে, সেদিন ইডি দফতরে কী নতুন তথ্য সামনে আসে, সেটাই দেখার।
