
নয়া দিল্লি: গণনাকর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত মামলায় Supreme Court of India-এর রায়ের পর জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। এই আবহেই সাংবাদিক বৈঠক করে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন বর্ষীয়ান আইনজীবী Kapil Sibal। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য—তৃণমূল কংগ্রেসের আবেদন খারিজ হয়নি, বরং বিষয়টি ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।
শনিবার সকালে মামলার শুনানিতে Supreme Court of India কলকাতা হাইকোর্টের রায় বহাল রাখে। এর আগে গণনাকেন্দ্রে শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী নিয়োগের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল All India Trinamool Congress। তাদের দাবি ছিল, নির্বাচন কমিশনের সার্কুলার অনুযায়ী রাজ্য সরকারি কর্মীদেরও অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।
এই প্রেক্ষাপটে কপিল সিব্বল বলেন, “আমাদের আবেদন খারিজ হয়নি। আমরা সার্কুলারকে চ্যালেঞ্জ করিনি, বরং সেটি সঠিকভাবে কার্যকর করার আবেদন জানিয়েছি।” তাঁর দাবি, হাইকোর্টে বিষয়টি অন্যভাবে ব্যাখ্যা করা হলেও সুপ্রিম কোর্টে তারা স্পষ্ট করেছে যে কমিশনের নির্দেশিকা ‘লেটার অ্যান্ড স্পিরিটে’ মানা উচিত।
আইনজীবী হিসেবে সিব্বল আরও জানান, নির্বাচন কমিশনের সার্কুলারে স্পষ্ট বলা রয়েছে যে গণনাকাজে কেন্দ্র ও রাজ্য, দুই ধরনের সরকারি কর্মীকেই র্যান্ডমভাবে বেছে নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু বাস্তবে কেন শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় কর্মীদেরই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, সেই প্রশ্নই তোলা হয়েছিল আদালতে।
তবে শুনানির সময় বিচারপতিরা পর্যবেক্ষণ করেন, সার্কুলারে যেহেতু কেন্দ্র ও রাজ্য—উভয় কর্মীদেরই নিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে, তাই শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় কর্মী নিয়োগ করাকে বেআইনি বলা যায় না। এই যুক্তির ভিত্তিতেই হাইকোর্টের রায় বহাল রাখে শীর্ষ আদালত।
এর পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কপিল সিব্বল। তাঁর মন্তব্য, “বাংলায় এত বিপুল পরিমাণ কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন কেন? এটা কি কোনও যুদ্ধ পরিস্থিতি?” তিনি ইঙ্গিত দেন, রাজ্যে অস্বাভাবিক মাত্রায় নজরদারি ও বাহিনী মোতায়েন নিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে।
সব মিলিয়ে, আদালতের রায়ের পরও বিতর্ক থামছে না। একদিকে আইনি ব্যাখ্যা, অন্যদিকে রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি, গণনা প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই উত্তাপ বাড়ছে রাজ্যের রাজনৈতিক আবহে। এখন নজর ৪ মে-র ফলাফলের দিকে, যেখানে এই বিতর্কের প্রকৃত প্রভাব কতটা পড়ে, সেটাই দেখার।
